দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের ‘দাদাগিরি’ রুখতে সামরিক শক্তিতে আরও কাছাকাছি আসছে ভারত, আমেরিকা

প্রতিরক্ষায় নজরদারির জন্য আমেরিকার কাছ থেকে কয়েকটি ড্রোন-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে চলেছে ভারত। এর পাশাপাশি গোপন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ও প্রতিবেশী দেশগুলির সামরিক প্রস্তুতির ওপর নজর রাখতে কৃত্রিম উপগ্রহের দেওয়া তথ্যাদিও এ বার দেওয়া-নেওয়া করতে চায় ভারত ও আমেরিকা।

সে ব্যাপারে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তাবলী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস। আলাদা ভাবে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও।

চিনের কথা মাথায় রেখে সামরিক শক্তির দিক দিয়ে দু’টি দেশের কাছাকাছি আসার প্রয়োজন যে আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে, তা নিয়ে গত বছরেই ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পর চলতি বছরে দু’-দু’বার ঠিক হয় ওই বৈঠক হবে। কিন্তু নানা কারণে দু’বারই সেই বৈঠকের দিনক্ষণ বাতিল হয়ে যায়।

আরও পড়ুন- শুল্ক যুদ্ধে মেক্সিকো আলো, চিন মেঘে ঢাকা​

আরও পড়ুন- বড় পরমাণু হামলার জন্য আদৌ তৈরি নয় আমেরিকা, রিপোর্ট বিজ্ঞানীদের​

দুই দেশের প্রশাসনিক কর্তা ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন দু’টি বৈঠক নিছকই কোনও প্রতীকী বৈঠক নয়। রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য সম্পর্ক নিয়ে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে যে টানাপড়েন চলছে গত কয়েক দশক ধরে, সেই দূরত্ব উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে আক্ষরিক অর্থেই, সামরিক শক্তিতে দু’টি দেশের কাছাকাছি আসার ক্ষেত্রে আসন্ন বৈঠক পথপ্রদর্শক হয়ে দাঁড়াবে। দু’টি দেশের প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরের ভিত গড়ে দেবে সীতারামন-ম্যাটিস ও সুষমা-পম্পেওর আসন্ন বৈঠক।

পেন্টাগনের এশিয়া বিভাগের শীর্ষ কর্তা র‌্যান্ডাল শ্রিভার গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘‘এই বৈঠক সত্যি-সত্যিই কয়েকটি বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবে।’’

মার্কিন নৌবাহিনীর জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ডও গত সপ্তাহে বলেন, ‘‘এই বৈঠক সামরিক শক্তিতে দু’টি দেশের হাত মেলানোর এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিল।’’

ভারতের সঙ্গে ‘কমিউনিকেশন্স কমপ্যাটিবিলিটি অ্যান্ড সিকিওরিটি এগ্রিমেন্ট (কমকাসা)’ স্বাক্ষর করতে অনেক ধরেই আগ্রহী আমেরিকা। কিন্তু এ ব্যাপারে আমেরিকার ‘নাক গলানো’ নিয়ে ভারতের আপত্তি ছিল এত দিন। ওই চুক্তি হলে ‘গার্ডিয়ান ড্রোন’-এর মতো প্রতিরক্ষা সামগ্রী ভারতকে বেচতে পারবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ।

গোপন সন্ত্রাসবাদী ও প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ওপর নজর রাখতে আরও একটি চুক্তি হওয়ার কথা ভারত ও আমেরিকার। তার নাম- ‘বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট (বেকা)’। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বলছে, ওই চুক্তি হলে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে গোপন সন্ত্রাসবাদী ও প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে যে সব তথ্য পাওয়া যাবে, সেগুলি একে অন্যের সঙ্গে বিনিময় করতে পারবে ভারত ও আমেরিকা।