ঢাল নেই,  তরোয়াল নেই। জেহাদি এখন   নিধিরাম সর্দার!

আল কায়দা প্রধান আমান আল-জাওয়াহিরিকে এখন এ ভাবেই ব্যাখ্যা করছেন জঙ্গি বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের দাবি, প্রাণশক্তি হারাচ্ছে আল কায়দা। এক সময় বিশ্বের সবচেয়ে চর্চিত এবং ত্রাসসৃষ্টিকারী জঙ্গিগোষ্ঠীর রসদ এখন তলানিতে।  অর্থাভাব তো রয়েছেই, পাশাপাশি একে একে সরে যাচ্ছে বিশ্বস্ত কর্মীরাও।

ব্রিটিশ একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া  সাক্ষাৎকারে অন্যতম জঙ্গি বিশেষজ্ঞ আবু মহম্মদ আল-মকদিসি জানান, পশ্চিমি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দাপটে আধিপত্য হারাচ্ছে আল কায়দা। ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পরে দায়িত্ব নেন আমান আল-জাওয়াহিরি। মকদিসি জানান, বর্তমানে একাই সংগঠন চালাচ্ছেন জাওয়াহিরি। আল কায়দার গুরুত্বপূর্ণ কয়েক জন সদস্যও বলছেন, ‘‘আইএস-এর উত্থানে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে আল কায়দা। কার্যকরী সংগঠন হিসেবে ওদের প্রাসঙ্গিকতাই নেই।’’ মকদিসির কথায়, ‘‘শুধু আনুগত্যের উপরেই এখন টিকে আছে আল কায়দা। ওদের কোনও সাংগঠনিক পরিকাঠামো নেই। কয়েক জন অনুগত মানুষ এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’’ একই সুর জর্ডনের বিশেষজ্ঞ আবু কাতাদার গলাতেও। তাঁর দাবি, গত দু’বছরে ইরাক-সিরিয়ায় আইএস-এর রকেটিয় উত্থান এবং ভয়ানক নৃশংসতা পিছনে ফেলে দিয়েছে আল কায়দাকে। আল কায়দা ভেঙে আইএস-এর তৈরি হওয়া এবং নাশকতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ফলেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে আল-কায়দার। আইএস-প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি নিজেই এক সময়ে আল কায়দার এক অনুগত কমান্ডার ছিলেন। আইএস-এর শীর্ষ নেতারাই বলছেন, আল কায়দার দিন শেষ। আইএস-এর দাবি, নিজেদের এলাকার আশপাশে অন্য কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীর অস্তিত্বই বরদাস্ত করবে না তারা। বরং ইরাক-সিরিয়ার পরে আফগানিস্তান ও পশ্চিম এশিয়া থেকেও আল-কায়দাকে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর তারা।