ফের বিতর্কে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। এ বার তাঁর নিশানায় রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মিশেল ব্যাচেলে। বোলসোনারো ছাড়েননি ব্যাচেলের বাবাকেও। মিশেল ব্রাজিলের পুলিশের হাতে অগুনতি হত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাতেই চটে গিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো।

সম্প্রতি আমাজন বৃষ্টি-বনানীর আগুন নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছিলেন বোলসোনারো। এ বার চিলের প্রাক্তন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট মিশেল তাঁর দেশের পুলিশ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষিপ্ত বোলসোনারোর দাবি, মাকরঁর পথেই হাঁটছেন মিশেল। জেনিভায় সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মিশেল বলেছিলেন, ‘‘রিয়ো ডি জেনেইরো আর সাও পাওলোতেই শুধু ১২৯১ জনকে মেরেছে পুলিশ। এটা হয়তো পুলিশের কাজ ছিল, তবু গত বছর এই ভাবে মারার হার অন্তত ৫ শতাংশ কম ছিল। ইদানীং ব্রাজিলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে আর মানবাধিকার রক্ষার জন্য যাঁরা আন্দোলন করেন, তাঁদের উপরে পরিকল্পিত হামলা বাড়ছে। নাগরিক সমাজের উপরে নেমে এসেছে নিষেধ। আক্রমণ চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও।’’

চিলের একনায়ক শাসক অগুস্তো পিনোশের আমলে নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন মিশেলের বাবা  আলবার্তো ব্যাচেলে এবং মিশেল নিজেও। সেই পিনোশের প্রশংসায় বোলসোনারো পরে বলেন, ‘‘মিশেল বলছেন, ব্রাজিলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। উনি ভুলে যাচ্ছেন, ওঁর দেশটাও নয়া কিউবা হয়ে যেত যদি বামেদের নিয়ন্ত্রণের সাহস ওদের (পিনোশে প্রশাসন) না থাকত। মিশেলের বাবা কমিউনিস্ট ব্রিগেডিয়ারকেও ১৯৭৩-এ থামিয়ে দিয়েছে ওরা।’’ এর পরে মিশেলকে আরও বিঁধে বোলসোনারোর মন্তব্য, ‘‘যে সব লোকের কোনও কাজ নেই, তারাই গিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারে বসে পড়ে!’’