ভুটানের পড়ুয়াদের মধ্যে অসাধারণ কিছু করার শক্তি এবং সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। থিম্পুতে রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ভুটানের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আজ তিনি বেশ কিছু ক্ষণ কাটান। সেখানে মোদী বলেন, ‘‘তরুণদের কাছে এত ভাল সময় আগে কখনও আসেনি।’’ একই সঙ্গে তাঁর আশ্বাস, ভুটানের উন্নয়নে ভারত সব সময়ে পাশে থাকবে।

দ্বিতীয় বার দিল্লির মসনদে আসীন হওয়ার পরে এই প্রথম ভুটান গেলেন মোদী। দু’দিনের ভুটান সফরের শেষ দিনে আজ প্রধানমন্ত্রী থিম্পুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের অসাধারণ কিছু করার শক্তি এবং সম্ভাবনা রয়েছে। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর গভীর প্রভাব ফেলবে। মন যা চায় তাই করুন। নিজেদের প্যাশনকে স্পর্শ করতে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।’’ মোদীর বক্তৃতা শোনার জন্য অনুষ্ঠান কক্ষে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। পড়ুয়ারা তো ছিলেনই, ভুটানের একাধিক মন্ত্রী-আমলারাও উপস্থিত ছিলেন। 

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভুটানের অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন মোদী। তাঁর বক্তৃতায় ভারতের চন্দ্রযান-২ অভিযানের প্রসঙ্গও উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘নিজেদের জন্য ছোট উপগ্রহ তৈরি করতে ভুটানের নবীন বিজ্ঞানীরা গবেষণার কাজে ভারতে যাবেন। আশা করি, সে দিন খুব তাড়াতাড়ি আসবে যে আপনাদের মধ্যে অনেকেই বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়র এবং আবিষ্কারক হবেন।’’ পড়ুয়াদের উদ্বুদ্ধ করতে নিজের লেখা বইয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘ওই বইয়ে যা লিখেছি, তা বুদ্ধের শিক্ষা থেকে প্রভাবিত হয়েই লিখেছি।’’

দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত এবং ভুটান ‘স্বাভাবিক সহযোগী’। তিনি বলেন, ‘‘তড়িৎগতিতে যদি ভুটানের উত্থান ঘটে তা হলে ১৩০ কোটি ভারতীয় বন্ধু শুধু দর্শক হিসেবে থাকবেন না। আপনাদের সহযোগী হবেন। তাঁরাও আপনাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন এবং শিখবেন।’’