আন্তর্জাতিক স্তরে আরও এক বার কোণঠাসা পাকিস্তান সরকার। ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) নামে আন্তর্জাতিক আর্থিক পর্যবেক্ষক সংস্থার অধীনস্থ এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ (এপিজি) এ বার পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত দেশ বলে ঘোষণা করল। সন্ত্রাসে অর্থ জোগানো এবং আর্থিক তছরুপ রুখতে ইসলামাবাদ যথাযথ পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই এই সিদ্ধান্ত বলে ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ জানানো হয়েছে।

ধুঁকতে থাকা পাক অর্থনীতিতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ব্যাপক আকারে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। কারণ এর পরে আন্তর্জাতিক স্তরে আর্থিক সাহায্য পেতে আরও সমস্যায় পড়তে হবে ইমরান খানের সরকারকে। সেই সঙ্গে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলিও পাকিস্তানের থেকে মুখ ফেরাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত জুন মাসে এপিজি-র একটি সমীক্ষা পাকিস্তান সরকারকে সতর্ক করে বলেছিল, সন্ত্রাসবাদে অর্থের জোগান বন্ধ করার জন্য তারা যে যে  শর্ত দিয়েছিল, তার অর্ধেকও পূরণ করতে পারেনি ইসলামাবাদ। এর জন্য পাকিস্তানকে ধূসর তালিকার আওতায় আনা হয়।  এ বার এপিজি জানিয়েছে, ৪০টির মধ্যে ৩২টি শর্ত পূরণে সম্পূর্ণ পাক সরকার। আগামী অক্টোবরে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করবে তারা। তার আগে এই সব শর্ত পূরণ না হলে পাকাপাকি ভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে পাক সরকারকে। আর সেটা হলে আরও কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়বে পাকিস্তান। বন্ধ হতে পারে মার্কিন অনুদানও।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় সম্প্রতি একটি বৈঠকে পাকিস্তানকে কালো তালিকায় তোলার সিদ্ধান্ত নেয় এপিজি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাক সরকারের প্রতিনিধিরাও। সন্ত্রাস দমনে ইমরান সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তাঁদের সামনেই তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাক সরকারের তরফে এফএটিএফ-এর কাছে সন্ত্রাস দমন নিয়ে একটি ২৭ দফার ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ও জমা দেওয়া হয়।

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অভিযোগ, তাঁর দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করার পিছনে ভারতের হাত রয়েছে। ক্যানবেরার বৈঠকের সময়েই তিনি বলেছিলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওরা পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। পুলওয়ামা হামলার সময়েও নির্বাচনকে কাজে লাগিয়েছিল ওরা। এ বার এফএটিএফের কাছে আমাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছে নয়াদিল্লি।’’