পরনে স্কুলের ইউনিফর্ম, গলায় ঝুলছে আই কার্ড। পড়ুয়াদের মুখে গর্জে উঠল স্লোগান— ‘সমুদ্র ফুলে-ফেঁপে উঠছে, আর আমরাও’। আজ অস্ট্রেলিয়া-সহ অন্তত দেড়শোটি দেশে স্কুলে না গিয়ে পথে নেমেছিল পড়ুয়ারা। খুদেদের আর্তি, ‘‘এই পৃথিবীর কোনও বিকল্প গ্রহ নেই, একে বাঁচাতেই হবে!’’ 

সামনে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ সম্মেলন। তার আগে রাষ্ট্রনেতাদের কাছে ছোটদের আবেদন, দ্রুত কিছু একটা করতেই হবে। বিক্ষোভ আজ সব চেয়ে বড় চেহারা নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। ‘অ্যালিস স্প্রিংস’-এর মতো প্রত্যন্ত শহরের রাস্তাও ছেয়ে গিয়েছিল পোস্টার আর প্ল্যাকার্ডে। 

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রথম প্রতিবাদী মুখ হয়ে উঠেছিল সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ। এ বার তার দেখাদেখি পথে নেমেছে গোটা বিশ্বের ছোটরা। অস্ট্রেলিয়ায় বিক্ষোভের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে গ্রেটা থুনবার্গ। সেই সঙ্গে তার আবেদন, ‘‘নজির গড়ছে অস্ট্রেলিয়া। যত বেশি সম্ভব ছবি পোস্ট করুন সবাই, যাতে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।’’ 

অস্ট্রেলিয়ায় আজ যে পড়ুয়ারা পথে নামবে, তা পূর্ব নির্ধারিত ছিল। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলীয় অর্থমন্ত্রী ম্যাথিয়াস করম্যান বলেছিলেন, ‘‘বাচ্চাদের ক্লাসেই মানায়।’’ কিন্তু সরকারি ‘উচিত-অনুচিত’-এর তোয়াক্কা না করে সকাল থেকেই একটু একটু করে ভিড় জমতে থাকে। বেলা গড়াতেই সিডনির ৮৪ একরের ফাঁকা ময়দানে ঠাসাঠাসি ভিড়। ব্রিসবেন ও অন্য শহরগুলোও বিক্ষোভের এক ছবি দেখেছে। ড্যানিয়েল পোরেপিলিয়াসানা নামে এক পড়ুয়ার কথায়, ‘‘রাষ্ট্রনেতারা বলছেন, ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে পড়াশোনা করা উচিত। আমরা অন্তত একবার দেখতে চাই, তাঁরা (রাজনৈতিক) পার্লামেন্টে সঠিক কাজ করছেন।’’ 

সমুদ্রস্তর বাড়ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট ছোট দেশগুলোর আশঙ্কাজনক অবস্থা। ধনী দেশগুলোর কাছে তারা বারবার বিপদের কথা জানিয়েছে। সলোমন দ্বীপপুঞ্জে আজ সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখায় ছোটরা। তাইল্যান্ডে পরিবেশ মন্ত্রকের সামনে প্রতিবাদ জানিয়েছে শ’দুয়েক কিশোর-কিশোরী। দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে ইন্দোনেশিয়ার পালাঙ্গকা রায়া। তার মধ্যেই ছোটরা আজ প্ল্যাকার্ড হাতে বেরোয়। সকলের বক্তব্য, ‘‘আমাদের এই একটাই গ্রহ...!’’