প্রায় ন’হাজার কোটি টাকা আর্থিক তছরূপের মামলায় ফেরার বিজয় মাল্য ফের বড় ধাক্কা খেলেন ব্রিটেনের আদালতে। মাস কয়েক আগে তাঁকে ভারতের হাতে প্রত্যর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। আজ এর বিরুদ্ধেই মাল্যের পাল্টা আর্জি খারিজ করে দিলেন হাইকোর্টের এক বিচারপতি। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে মাল্য ফের নতুন আর্জি পেশ করলে মৌখিক শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রের খবর। 

তবে দিল্লির একটা বড় অংশ মনে করছে, ভোটের ঠিক মুখে মাল্যর আর্জি খারিজ হয়ে যাওয়ায় বাড়তি অক্সিজেন পেল কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। যে হেতু বিরোধীরা গোড়া থেকেই বলে আসছে, এই সরকারই মাল্যকে পালাতে সাহায্য করেছে। যার পাল্টা আবার মোদী একাধিক জনসভায় বলেছেন, তাঁর সরকারের তৈরি কড়া আইনের জন্যই মাল্যের সম্পত্তি এ দেশে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এ বার অপেক্ষা প্রত্যর্পণের।

টানা এক বছর শুনানি শেষে গত ডিসেম্বরে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মাল্যকে প্রত্যর্পণের নির্দেশে দেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই সংক্রান্ত নথিতে সই করেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। এ দিকে ভারতে, ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমে মাল্যের একের পর এক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা শুরু করেছে সিবিআই এবং ইডি। 

প্রায় ন’হাজার কোটি টাকা ব্যাঙ্কের ঋণ প্রতারণা মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই দেশ ছাড়া বিজয় মাল্য। ২০১৬ সালে ভারত থেকে চলে গিয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকে ব্রিটেনেই রয়েছেন।

সম্প্রতি মোদী নিজেই এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ‘‘বিজয় মাল্য ব্যাঙ্কের কাছে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার বিশ্বজুড়ে তাঁর ১৪ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।’’ এই প্রেক্ষিতে মাল্য ব্রিটেন থেকে টুইট করেছিলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর সরকার ব্যাঙ্কের কাছে আমার ঋণের থেকেও বেশি অর্থ বাজেয়াপ্ত করেছেন। এই মন্তব্যই আমাকে অপবাদমুক্ত করেছে।’’