Advertisement
E-Paper

দেশের মধ্যেই কোভিড-চিত্রে অসাম্য, ফারাক মৃত্যুর হারেও

ভারতে এই মুহূর্তে কোভিডের দু’টি গোষ্ঠী মূলত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। একটি গোষ্ঠীর আক্রমণে গুরুতর সংক্রমণ হচ্ছে, অন্যটির ফলে সংক্রমিত উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযুক্ত হচ্ছেন।

দেবাশিস ঘড়াই

শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৩:১৬
ছবি পিটিআই।

ছবি পিটিআই।

বিভিন্ন দেশে কোভিড ১৯-এর মৃত্যুহার আলাদা আলাদা হওয়ায় (কেস ফেটালিটি রেশিয়ো বা সিএফআর) এ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রেই শুধু নয়, দেশের মধ্যেও এলাকা ভেদে মৃত্যুর হারে অনেক ফারাক থাকছে। ভারতের ক্ষেত্রে তেমনটাই দেখা যাচ্ছে। যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ভারতের বৃহৎ আয়তন, ভৌগোলিকগত ভাবে কোভিডের আলাদা ‘ক্লেড’-এর (একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন গোষ্ঠী) উপস্থিতি, মৃত্যুর খবর ঠিকঠাক নথিভুক্ত হওয়া বা না-হওয়া, কোভিড চিকিৎসার পরিকাঠামো-সহ বিষয়গুলি উঠে এসেছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক তথা ম্যাথেমেটিক্যাল-বায়োলজি বিশেষজ্ঞ প্রীতিকুমার রায় জানাচ্ছেন, ভারতের মতো বড় আয়তনের দেশে মৃত্যুহারের ফারাক থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ছোট দেশগুলির সিএফআর-এ সামঞ্জস্য থাকা সম্ভব, কিন্তু এ দেশের ক্ষেত্রে সেটা হওয়া অসম্ভব। তাঁর কথায়, ‘‘দেশের মধ্যেই এলাকা বিশেষে সংক্রমণের হারের তীব্রতায় ফারাক রয়েছে। ফলে সিএফআর-এও ফারাক দেখা যাচ্ছে।’’

তবে শুধু আয়তনের জন্যই নয়, কোভিডের কোন গোষ্ঠী, কোন রাজ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তার উপরেও সিএফআর নির্ভরশীল। ভারতে এই মুহূর্তে কোভিডের দু’টি গোষ্ঠী মূলত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। একটি গোষ্ঠীর আক্রমণে গুরুতর সংক্রমণ হচ্ছে, অন্যটির ফলে সংক্রমিত উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযুক্ত হচ্ছেন। কোন রাজ্য কী ভাবে সংক্রমণের মোকাবিলা করছে, তার উপরেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নির্ভর করছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। কানপুরের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’-র ‘ম্যাথেমেটিক্স অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্স’-এর অধ্যাপক মলয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবার বক্তব্য, ‘‘সিএফআর-এর ফারাকের কারণ নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। কোনও রাজ্যে ‘ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল’ কেমন, কোভিডেই যে মৃত্যু হয়েছে এমনটা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রশাসন কতটা মানছে এবং তা নথিভুক্ত করছে, তার উপরেও মৃত্যুহারের বিষয়টি নির্ভর করছে।’’

তবে সাম্প্রতিক তথ্যের নিরিখে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, মৃত্যুহারে দেশের প্রথম সারিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। যেখানে মহারাষ্ট্রের সিএফআর ২.৭ শতাংশ, দিল্লির ২ শতাংশ, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে এই হার ১.৯ শতাংশ। অন্য দিকে, কেরল, ওড়িশা, অসমের কথা যদি ধরা হয়, তা হলে তিনটি রাজ্যেই সিএফআর হল ০.৪ শতাংশ। স্বাভাবিক ভাবেই ফারাকটি স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অ্যাটমিক এনার্জি’ দফতরের অধীনস্থ অন্যতম গবেষণাকেন্দ্র ‘ইনস্টিটিউট অব ম্যাথেমেটিক্যাল সায়েন্সেস’-এর অধ্যাপক সিতাভ্র সিংহ অতিমারির শুরু থেকেই সংক্রমণের হার ও মৃত্যুহার নিয়ে গবেষণা করছেন। সাম্প্রতিক ‘অ্যাক্টিভ’ কেসের উপরে ভিত্তি করে তাঁর বিশ্লেষণে এই তথ্যগুলি উঠে এসেছে। সিতাভ্রের কথায়, ‘‘দেশের কয়েকটি প্রধান শহরের এই মুহূর্তের সিএফআর-এর চিত্র যদি দেখা যায়, সেখানেও এই পার্থক্য চোখে পড়বে। যেমন মুম্বইয়ের ৪.৬ শতাংশ, কলকাতার ৩.১ শতাংশ, দিল্লি, চেন্নাই ও পুণের ২ শতাংশ করে ও বেঙ্গালুরুর ১.৪ শতাংশ।’’

শহরে বেশি মৃত্যুহারের কারণ ব্যাখ্যা করে গবেষকদের বক্তব্য, কোভিড সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জানা যায়। কিন্তু গ্রামীণ ভারতের ক্ষেত্রে এই দু’টি হার কত, তা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্যই থাকে না প্রশাসনের কাছে। এক গবেষকের কথায়, ‘‘মৃত্যুহার কমের যে বিষয়টি দাবি করা হচ্ছে, সেটা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে। বাস্তবে ওই হার আরও বেশি।’’

Coronavirus Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy