ঝাড়বাতির আলোয় শুভদৃষ্টি বা জুঁই ফুলে মালাবদল! অথবা বিয়ের সাজে ওড়নায় নামের আদ্যক্ষর বা বিয়েতে মায়ের পুরনো বেনারসির স্পর্শ! স্বপ্নের মতো শোনাচ্ছে কি? অনেকটা তাই। কিন্তু এ স্বপ্ন সত্যিও হয়। বিয়েতে সকলেই চায় অভিনব কিছু করতে। বিয়ের পরিকল্পনা করার সময় থেকেই পুরো বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

 

বিবাহবাসর

প্রথমেই ঠিক করতে হবে বিয়ের স্থান। বিয়েবাড়ি বা হোটেল না নিয়ে, বেছে নিতে পারেন পুরনো দিনের রাজবাড়ি বা গঙ্গাপাড়ের বাগানবাড়ি। তা হলে লোকেশনেও থাকবে আভিজাত্যের ছোঁয়া। তার সঙ্গে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের স্বাদও ঈষৎ পূরণ হবে। 

 

নিমন্ত্রণপত্র

নিমন্ত্রণপত্র তৈরি করুন এমন ভাবে, যেখানে দুটো কারুকাজ করা কৌটোয় সিঁদুর ও হলুদ থাকবে। সঙ্গে থাকতে পারে মিষ্টি বা চকলেটের বাক্সও। আর নিমন্ত্রণপত্র খুললেই যদি ভেসে আসে সানাইয়ের সুর! এমন মিউজ়িক্যাল কার্ড কিন্তু বানিয়ে নেওয়াই যায়। ই-কার্ড পাঠালেও নিজেদের ভয়েস রেকর্ড করে নিমন্ত্রণ করতে পারেন।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

গাত্রহরিদ্রা

অনুষ্ঠানে থিম কালার রাখতে পারেন। সকলে এক রঙের পোশাক পরলে ভাল দেখাবে। গায়ে হলুদে পরার পোশাক কনের বাড়ি থেকে নিমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে পাঠাতেও পারেন। কনের সাজে ফুলের গয়না ব্যবহার করলে বেশ দেখাবে। পলাশ, চাঁপা, জুঁই, লিলি, জারবেরা, গন্ধরাজ ইত্যাদি মরসুমি ফুল বাছতে পারেন। 

 

সাজ হোক স্বতন্ত্র

• মায়ের নকশা করা ভারী কাজের পুরনো বেনারসি ও নিজের হালকা বেনারসি একসঙ্গে পরা যায়। নীচের দিকে ভারী কাজের বেনারসি রাখুন। আঁচলে নতুন বেনারসি। বেনারসি কেনার সময়ে মায়ের বেনারসির নকশা মাথায় রাখবেন।

• ডিজ়াইনারকে দিয়ে শাড়িতে নিজের পছন্দের নতুন মোটিফ বসিয়ে নিতে পারেন। রিসেপশনের শাড়িতে অফবিট রং বাছুন। বেছে নিতে পারেন পেস্তা, গেরুয়া, পাউডার ব্লু, মভ, রাস্ট ইত্যাদি রং। 

• ব্লাউজ়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলতেই পারে। শাড়ির সঙ্গে কনট্রাস্ট রঙের ব্লাউজ় পরুন। ব্লাউজ়ের কাট হোক অভিনব। ব্লাউজ়ের মোটিফে পালকি, সানাই, প্রজাপতিও রাখা যায়।

• ওড়নায় নতুনত্ব আনতে পাড়ে বা জমিতে হবু বর ও নিজের নামের আদ্যক্ষর বসিয়ে নিন। 

• বিয়ের দিন বরের পোশাকের জন্য বেছে নিতে পারেন ধুতি-পাঞ্জাবি। জামদানি, বেনারসি বা ইক্কত কাপড়ের ধুতি বেছে নিতে পারেন। প্রয়োজনে দর্জিকে দিয়ে বানিয়েও নিতে পারেন। ধুতি পরার সময়ে তার কোঁচা আঁচলের মতো ব্যবহার করুন। রিসেপশনে বরের লুক নিয়েও অনেক কিছু করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ব্লেজ়ার, ধুতি, পাঞ্জাবি ছেড়ে নতুন কাটের পোশাক বানিয়ে নেওয়া যায়। 

বিয়ের বাজেট

• নিমন্ত্রিতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করুন। বিয়েতে অনেক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের ভিড় লেগেই থাকে। সেখানে যদি শুধু কাছের মানুষদের নিয়ে অনুষ্ঠান হয়, তা হলেই অতিথির সংখ্যা অনেক কমে যাবে। সঙ্গে খরচও
• সোনার বা পাথরের গয়না সামর্থ্য অনুযায়ী কিনুন। বাকি সাজ সম্পূর্ণ করতে কস্টিউম জুয়েলরি কিনতে পারেন 
• বিয়ে যে সিজ়নে, পদে রাখুন সেই মরসুমের সহজলভ্য খাবার। শীতে আম বা ইলিশের মতো পদ জুড়লে কিন্তু খরচ বাড়বে
• বিয়ের ভেনু বাছার সময়ে টাকার অঙ্কটা দেখে নেবেন। খরচ বাঁচানো যায় ডেকরেশন ও ফুলে

খাওয়াদাওয়া

বিয়েবাড়ির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। খাবার ভাল না হলে কিন্তু বিয়েবাড়ি মাটি। তবে এখনকার বিয়েবাড়িতে অবাঙালি পদেরই ভিড় বেশি। সেখানে অভিনব ব্যবস্থা করতে বেছে নিতে পারেন পুরনো দিনের রান্না। পুরনো খাবার দিয়ে একটা মেনু যদি তৈরি করা যায়! সেখানে থাকতে পারে পদ্মলুচি, ছানার ডালনা, পোস্ত পাতুরি, মুড়িঘণ্ট, মুগ মনোহর, মোগলাই কোর্মা, গন্ধরাজ চিংড়ি, ভেটকির ঘণ্ট, কই হর-গৌরী, মিষ্টি ভাত, মাংসের ঝোল, ইলিশের অম্বল, মিঠে গোলাপি চাটনি, বাদশাহী ভোগ, ডালের বরফি, সরপুরিয়া, ক্ষীরের মালপোয়া, জলভরা, চন্দ্রপুলি, রাবড়ি, মিষ্টি দইয়ের মতো খাবার। খাবারের নামকরণও করতে পারেন সুন্দর করে আর সঙ্গে তার বিবরণও দেওয়া যায়।

 

বধূবরণ 

নববধূকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যেতে সুসজ্জিত পালকি, ঘোড়ার গাড়ি বা হাতে টানা রিকশা ব্যবহার করতে পারেন। গাড়িতে করে শ্বশুরবাড়ির কাছাকাছি এসে গেলে সেখান থেকে এ ভাবে বউকে নতুন বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন। 

 

খেয়াল রাখবেন

• অনুষ্ঠানবাড়িতে অনেক গয়না থাকে। বিয়ের কনে তো বটেই, অতিথি অভ্যাগতরাও গয়না পরেই আসেন। ফলে নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতে ভুলবেন না। লোকাল থানায় বলে রাখতে পারেন। নিরাপত্তারক্ষী ভাড়া নিতে পারেন।

• বিয়েবাড়ির বর্জ্য মোটেও পরিবেশবান্ধব নয়। চেষ্টা করুন, কলাপাতা, শালপাতা, মাটির ভাঁড় ব্যবহার করতে। সম্ভব না হলে বোন চায়নার প্লেট ও স্টিলের কাটলারি ব্যবহার করুন। বিয়ের পরে বর্জ্য ঠিক জায়গায় ফেলা কিন্তু আপনারই দায়িত্ব। রাস্তায় যেন তা স্তূপ তৈরি না করে, খেয়াল রাখবেন। 

• রিটার্ন গিফটেও নিজের ছোঁয়া রাখতে পারেন। গাছের চারা উপহার দিতে পারেন নিমন্ত্রিতদের। পাটের ছোট ব্যাগ বা কানের দুলও হতে পারে রিটার্ন গিফট।

বিয়ের মতো এত বিরাট এক অনুষ্ঠানে খামতি তো থেকেই যায়। হাজার আয়োজন করলেও মনে হয় যেন আরও কিছু হলে ভাল হত। তাই আগেভাগেই শুরু হোক না কেন বিয়ের পরিকল্পনা...

 

মডেল: বিক্রম চট্টোপাধ্যায়, দর্শনা বণিক, সুস্মেলী দত্ত, জয়দীপ সিংহ, লক্ষ্য পঞ্জাবি, নয়নিকা সরকার; 

ছবি: দেবর্ষি সরকার; মেকআপ: অভিজিৎ পাল; নীল ব্লেজ়ার, ব্লাউজ়, সাদা পাঞ্জাবি ও স্টাইলিং: নীল সাহা শাড়ি: আনন্দ, রাসেল স্ট্রিট; ওড়না ও ধুতি: অভিষেক নাইয়া; গোলাপি লং ড্রেস: সিমায়া, ট্রায়াঙ্গুলার পার্ক গয়না: সাওনসুখা জুয়েলার্স, ক্যামাক স্ট্রিট; লোকেশন: অলটেয়ার বুটিক হোটেল; ফুড পার্টনার: ৬ বালিগঞ্জ প্লেস, রাজারহাট