সপ্তাহে ছয় দিন ৮ ঘণ্টা অফিস। বাড়ি ফিরে ক্লান্ত শরীররটাকে কোনও মতে বিছানায় ছুড়ে দিলেই দিন শেষ। পরের দিন আবার সেই, ‘থোড়-বড়ি-খাড়া’। বছরের পর বছর রোজের এই রুটিন শুধু আমাদেরই ক্লান্ত করে না, অতিষ্ঠ করে আমাদের চারপাশের মানুষজনকেও। কোয়ালিটি টাইমের অভাবে তাঁরা একলা বোধ করতে শুরু করেন।

এর সঙ্গে যদি এসে যুক্ত হয় উইকেন্ডের অফিস পার্টি। তবে আর রক্ষে নেই। অনেকেই বুঝত পারেন না কী ভাবে প্রায়োরিটিগুলিকে ম্যনেজ করবেন। প্রত্যাশাভঙ্গের কারণে সম্পর্ক তো গোল্লায় যায়ই, শিকেয় ওঠে নিজের শান্তিও। জীবনযুদ্ধে জেরবার এই অবস্থার বদল আনবেন কী করে? বাড়িও রইল, অফিসের পার্টিটাও মিস গেল না। এমনও কি সম্ভব?

তেমন করে পরিকল্পনা করতে পারলে আলবাত সম্ভব। কিন্তু ওই পরিকল্পনা গোড়ায় গলদ জমে বলেই দিনের শেষে ‘ভিলেন’ হয়ে ওঠেন আপনি! রইল প্রায়োরিটি ম্যানেজমেন্ট টিপ্‌স।

অগ্রিম প্ল্যান করুন

গোটা সপ্তাহের একটা প্রাথমিক পরিকল্পনা করে ফ্রিজের গায়ে সেঁটে দিন। আপনি নিজেও  দেখতে পারবেন। পরিবারের লোকজনও পারবে। আপনার থেকে অচেনা প্রত্যাশা রাখবেন না কেউ।

এই প্ল্যানের মধ্যেই যেন বাড়ির জন্যে বরাদ্দ সময়ের উল্লেখ থাকে। এতে আপনার সন্তান, মা-বাবা স্ত্রী অনুভব করতে পারবে তাঁদের আপনি কতটা প্রাধান্য দেন।

সহকর্মীদের বাড়িতে ডাকুন

এমন পরিস্থিতিতেও পড়তে পারেন যখন হঠাৎ পার্টি কিছুতেই কাটানেো যাচ্ছে না। কী করবেন? একটু ঝুঁকি নিয়ে পার্টিটা আপনার বাড়িতে করার প্রস্তাব দিতে পারেন। এতে আপনার পরিবারও একটা গেট-টুগেদারের সুযোগ পাবে। সর্বোপোরি কোথাও আপনার ইমেজ একচুলও নড়বে না।

সারপ্রাইজ ডিনার বা ডে আউট প্ল্যান ছোট করুন

মাঝে মাঝে জলদি অফিস কেটে  সারপ্রাইজ ডিনারে যেতে পারেন পরিবারের প্রিয়জনদের। কোনও ভুলবোঝাবুঝি তৈরি হলেও এই সক্রিয়তা আপনার আপন জনের সমস্ত অভিমান ভুলিয়ে দেবে। কখনও বা একটা ছোটখাটো বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনাও করে পেলতা পারেন। অনে দিন যাননি এমন কোনও আত্মীয়ের বাড়ি বা পরিবারের সকলে গিয়ে আনন্দ পারেন এমন কোথাও কাটিয়ে আসুন কয়েক ঘণ্টা। পরের দিন অফিস থাকার কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করুন। কোনও কোনও দিন পছন্দের ছবি বা অনুষ্ঠান দেখে আসার পরিকল্পনাও করতে পারেন।

পরিবারের সঙ্গে সময়। ছবি: শাটারস্টক।

ছুটির সময়টুকু একান্ত আপন জনদের

চাকরিজীবী দম্পতি একই দিনে ছুটি নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আগে থেকে সেই ছুটির দিনের প্ল্যান থাকলে ভাল। না থাকলেও ক্ষতি কী! একটা দিন একসঙ্গে দেরিতে ওঠা, একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট ও অন্য কাজে ভাগাভাগি সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।

সবশেষে বলার, নিজের জন্যেও একটা বিশেশ সময় বরাদ্দ থাকা চাই। নিজেকে যত্ন করতে না পারলে পরিবার পরিজনের প্রতি যত্নশীল হওয়াও কিন্তু কঠিন।