ভোটের প্রচারে এগিয়ে থাকতে নজর স্বাস্থ্যে, ফ্যাশনেও
প্রচারপর্ব শুরু হয়ে যাওয়ার পরে প্রথমেই উল্টে-পাল্টে গিয়েছে প্রার্থীদের রোজকার রুটিন।
priyanka gandhi

প্রচার পর্বে সুতির শাড়িতেই নজর কেড়েছেন প্রিয়ঙ্কা বঢরা। অযোধ্যার সভায়। ছবি: রয়টার্স।

দিনভর পুরোদমে চলছে প্রচারের কাজ। ভোটের উত্তেজনার পারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়ছে তাপমাত্রার পারদও। প্রায় আড়াই মাসের এই ভোটপর্বে শুধু রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করাই নয়, প্রার্থীদের নজর রয়েছে তীব্র গরমে সুস্থ থাকার নানা উপায়ের দিকেও।

প্রচারপর্ব শুরু হয়ে যাওয়ার পরে প্রথমেই উল্টে-পাল্টে গিয়েছে প্রার্থীদের রোজকার রুটিন। চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের পরামর্শ, এই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে বাইরে ঘোরার কাজ যতটা সম্ভব তোলা থাকুক সকাল ও বিকেলের জন্য। দুপুরে বরং ঘরে বসেই ছকে নেওয়া হোক প্রচার-কৌশল। এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হল ঘুমের সময়। ব্যস্ততা যতই থাকুক, দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ঘুম না হলে তার প্রভাব পড়বে শরীরে-মনে। মথুরার বিজেপি প্রার্থী, বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনীর মতোই সকালে যোগব্যায়াম দিয়ে দিন শুরু করা গেলে ভাল হয় বলে মত চিকিৎসকদের। তার সঙ্গেই খাদ্যতালিকায় প্রয়োজন সহজপাচ্য, কম মশলা দেওয়া খাবার ও প্রচুর পরিমাণে জল, নুন-চিনি-লেবুর সরবত, ডাবের জল জাতীয় পানীয়ের।

ভোট প্রচারের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে হাঁটার পর্ব। তাই সুস্থ থাকার সহজপাঠে প্রথমেই নজর দিতে হবে পায়ের দিকে। পায়ের মাপের চেয়ে সামান্য বড় হাঁটার বিশেষ জুতো বা স্নিকার্স পরার পরার্মশ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। চটি জাতীয় জুতো পরলে কোমর বা পায়ের ব্যথায় কাবু হতে পারেন প্রার্থীরা। দিনের শেষে ক্লান্তি দূর করতে স্নান করা এবং ঈষদুষ্ণ জলে পা ডুবিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। বয়স্ক প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রচার চলাকালীন নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। বিশেষত, ডায়াবিটিসের মতো সমস্যা থাকলে, বদলে যাওয়া রুটিন অনুযায়ী ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করে নেওয়া জরুরি। আর প্রচারের চাপ যতই থাক, ওষুধ খেতে ভুল না হয়, সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

অরুণাংশুবাবুর পরামর্শ, রোজ প্রচারে বেরোনোর আগেই, বিশেষত মহিলা প্রার্থীরা পরিকল্পনা করে নিন, যাতে অন্তত ঘণ্টা তিনেক ছাড়া ছাড়া পরিচ্ছন্ন শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ মেলে। এই বাস্তব সমস্যাটির কথা ভুলে গেলে কিন্তু তৈরি হতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা।

গরমকালে সূর্যের আলোয় ইনফ্রা রেড রশ্মি বেশি থাকে। ত্বকে জ্বালা ভাব অনুভূত হয় এর জন্য। এ থেকে মুক্তি পেতে ঢোলা, লম্বা হাতার সাদা সুতির পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন চর্মরোগ চিকিৎসক সন্দীপন ধর। যতটা পারা যায় ব্যবহার করতে হবে সানস্ক্রিন, ছাতা, সানগ্লাস, টুপি। ঘাম থেকে সংক্রমণ এড়াতে দিনে একাধিকবার বদলে ফেলতে হবে পোশাক। একাধিক বার স্নান করলে এড়ানো যাবে সানস্ট্রোকের আশঙ্কাও। চড়া রোদ থেকে ত্বক বাঁচাতে খেতে হবে লেবু, আমলকির মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারও।

তবে চিকিৎসকেরা যেমনই পরামর্শ দিন, ভোটের ময়দানে শুধু সাদা পোশাক পরে নামবেন প্রার্থীরা, তা কি হয়? বিশেষত তারকা প্রার্থীদের নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে? তাঁরা তো শুধুই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন, তাই ‘ইমেজ’ ধরে রাখার বিষয়টিও তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই ফ্যাশন ডিজাইনার অভিষেক দত্তর পছন্দ হলুদ, হালকা নীল, পেস্তা সবুজ, বেজ, গোলাপির মতো প্যাস্টেল রং আর সুতি, লিনেনের পোশাক। মহিলা প্রার্থীদের জন্য তাঁর পোশাক তালিকায় রয়েছে হ্যান্ডলুম শাড়ি, সঙ্গে পুরো হাতা, বা তিন চতুর্থাংশ হাতার ব্লাউজ়। চলতে পারে সাবেক কুর্তা বা অসমান ঝুলের কুর্তাও। প্রয়োজন বুঝে তার সঙ্গে মানানসই ওড়না। তাতে যেমন বজায় থাকবে ফ্যাশন, তেমনই মিলবে আরাম। সঙ্গে মুখের আদল অনুযায়ী সানগ্লাস, টুকটাক প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার ব্যাগ। মেকআপ আর গয়না হোক ‘মিনিম্যালিস্টিক’। জুতোর ক্ষেত্রে স্নিকার্স ছাড়া পরা যেতে পারে ব্যালেরিনা জাতীয় জুতোও। অভিষেকের মতে পুরুষদের ভোটের ফ্যাশনে যদিও কুর্তা-পাজামার বিকল্প নেই, তাও অল্পবয়সী নেতারা চাইলে হাল্কা কাপড়ের, হাতা ছাড়া নেহরু জ্যাকেটের কথা ভেবে দেখতে পারেন।‌

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত