Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৪ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

Mobile Phone: শিশুচোখে বিপদ ঘনাচ্ছে মোবাইল! অন্তত দু’ঘণ্টা বাইরে খেলতে দিতে হবে, বলছেন চিকিৎসকেরা

চোখের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, করোনাকালে বাচ্চাদের চোখের এমন সমস্যা বাড়ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ০৬:৫৮
Save
Something isn't right! Please refresh.


প্রতীকী ছবি।

Popup Close

নবম শ্রেণির ছাত্র সৌমাভ দে-র চোখে মাইনাস পাওয়ার ছিলই। ইদানীং তা বেড়েছে বলে জানালেন সল্টলেকের বাসিন্দা ওই পড়ুয়ার বাবা অবিন দে। ডানকুনির বিনোদ সিংহ প্রতাপের ছেলে সাত বছরের অথর্বের দূর থেকে দেখতে অসুবিধা হচ্ছে। তাই সে টিভি বা কম্পিউটার দেখছে একদম সামনে থেকে। এক মাস ধরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই পড়ুয়ার চোখ দিয়ে জলও পড়ছে।

চোখের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, করোনাকালে বাচ্চাদের চোখের এমন সমস্যা বাড়ছে। অনলাইন-পাঠের তাগিদে কম্পিউটার ও মোবাইলের অত্যধিক ব্যবহারকে দুষছেন তাঁরা। সংক্রমণের ভয়ে বাচ্চারা বেরোতে পারছে না। সেই অভাব তারা মেটাচ্ছে মোবাইলে ভিডিয়ো গেমস খেলে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চোখের সমস্যাও। অবিনবাবু জানান, মোবাইলে আসক্তি বেড়ে গিয়েছে তাঁর ছেলেরও।

ডানকুনির দৃষ্টিদীপ আই ইনস্টিটিউটের কর্ণধার, চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ তনুশ্রী চক্রবর্তী জানান, শিশুদের মাইনাস পাওয়ার আগেও ছিল। কম্পিউটার বা মোবাইল— সবই কাছ থেকে দেখতে হয়। দূরের জিনিস দেখার প্রয়োজন পড়ছে না। ফলে দূরের জিনিস দেখার অনভ্যাসে মাইনাস পাওয়ারের প্রবণতা আরও বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘‘বাচ্চাদের চোখে জ্বালা, জল পড়া বা তা শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা আগে ছিল না। এখন হয়েছে। আগে দিনে তিন-চার জন এমন রোগী দেখতাম। এখন তা বেড়ে হয়েছে সাত থেকে আট।’’

Advertisement

চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ক্লাসে বাচ্চারা ব্ল্যাক বোর্ডের লেখা দেখতে না-পেলে শিক্ষককে জানাত। ফলে চোখে সমস্যা হলে শুরুতেই ধরা পড়ত। এখন বাবা-মা সন্তানদের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন চোখের সমস্যা অনেকটা বেড়ে যাওয়ার পরে ।

তনুশ্রীদেবী বলেন, ‘‘অন্তত দু’ঘণ্টা বাচ্চাদের বাইরে খেলতে দিতে হবে। এতে তাদের চোখের মাইনাস পাওয়ার বৃদ্ধির হার হ্রাস পাবে।’’ কম্পিউটারের ব্যবহার কমানো, চোখে জলের ঝাপটা দেওয়া ইত্যাদির উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি। জানাচ্ছেন, কথায় কথায় বাচ্চাদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া চলবে না। ‘‘চোখের রোগ এড়াতে চার থেকে ছ’বছরের বাচ্চাদের বছরে এক বার চক্ষু পরীক্ষা করা জরুরি,’’ পরামর্শ তনুশ্রীদেবীর।

সুশ্রুতের চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ রতীশচন্দ্র পাল জানান, স্কুলে আগে সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগে চোখ পরীক্ষা করা হত। করোনায় তা বন্ধ। শিশুরা অনেকটা সময় কাটাচ্ছে কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইলের সঙ্গে। ফলে তাদের ‘কম্পিউটার ভিসন সিনড্রোম’ দেখা দিচ্ছে। রতীশবাবু বলেন, ‘‘আগে ১০০ জন রোগীর মধ্যে তিন-চার জনের মধ্যে এটা পাওয়া যেত। এখন এই রোগ ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।’’

চক্ষু চিকিৎসক সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কম্পিউটার, মোবাইল, ল্যাপটপ দেখতে হয় কাছ থেকে। তাতে বেশি জোর পড়ায় চোখের সিলিয়ারি মাসল দুর্বল হয়ে যায়। অনলাইন-পাঠে ওই মাসলকে খাটতে হচ্ছে বেশি। ফলে ঝাপসা দেখা, মাথায়-চোখে ব্যথা, বমি ভাবের সমস্যা দেখা দিচ্ছে ছোটদের।’’ তিনি জানান, দু’টি ক্লাসের মধ্যে বিরতি বাড়ানো, সকালে-দুপুরে-রাতে দু’টি ক্লাসের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্কুলে তা মানছে না।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement