দলের শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিজেপি সমর্থকদের আক্রমণের মুখে পড়লেন সিপিএম কর্মীরা। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় বীরচন্দ্র মনুতে আজ এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, অন্তত ১১ জন সিপিএম কর্মী আহত হয়েছেন হামলায়। মহকুমার পুলিশ আধিকারিক প্রণব দেবনাথ ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘‘ঠিক কত জন আহত হয়েছেন, সেটা বলা যাচ্ছে না।’’ আর বিজেপির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘এই বিষয়ে আপাতত কিছুই জানি না।’’

রাজ্যে কংগ্রেস-টিইউজিএস জোট সরকারের আমলে ১৯৮৮ সালের ১২ অক্টোবর বীরচন্দ্র মনুতে সিপিএমের কার্যালয় খোলার সময় ১১ জন সমর্থক ও দু’জন পুলিশকর্মী খুন হন। আজ সেখানে শহিদ স্মরণের কর্মসূচি নিয়েছিল সিপিএম। উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার, উপনেতা বাদল চৌধুরী, ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদের ‘এগ্‌জিকিউটিভ মেম্বার’ পরীক্ষিৎ মুড়া সিংহ, বিধায়ক সুদন দাস। দীপক রিয়াং ছিলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি। হামলা হয়েছে তাঁর সামনেই।

সিপিএমের অভিযোগ, এ বারের অনুষ্ঠান বানচাল করার জন্যে গত কয়েক দিন ধরেই বিজেপির সমর্থকরা তৎপর ছিল। সিপিএম বিধায়ক বাদল চৌধুরীর দাবি, বিজেপির লোকেরা গত কাল থেকেই মিছিল করেছে। মাইকে ঘোষণা করেছে, সিপিএমের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে গেলে ‘পরিনাম খারাপ  হবে’ এমনকি ‘টুকরো-টুকরো করে কেটে ফেলা হবে’। বাদলবাবুর কথায়, ‘‘এমন হুমকির মুখেও মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। কারণ, শহিদদের স্মৃতি তাঁদের মনে গেঁথে রয়েছে।’’

এ দিন অনুষ্ঠান স্থলের কাছাকাছি বিজেপির কিছু সমর্থক ছিল। সিপিএম সমর্থকদের উপরে হামলা হয় যাওয়া-আসার সময়ে। জখম ১১ জনের মধ্যে ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সিপিএমের অভিযোগ, এক জন জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে গিয়েও বিজেপির সমর্থকেরা ভয় দেখিয়েছে। হুমকির মুখে তাঁকে বাড়িতে চলে যেতে হয়েছে। আর এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে আগরতলা জিবি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শহিদ-স্মরণে এ দিন মানিক সরকার পৌঁছতেই বিজেপির সমর্থকেরা গলা চড়ান ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে। রাজ্যের বেহাল দশার বর্ণনা দিয়ে মানিকবাবু বলেন, ‘‘প্রলোভন প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সরকার এসেছিল। কিন্তু এখন দেখা যাছে কিছুই করছে না। দেশে অস্থির পরিস্থিতি চলছে।’’