উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরায় নাবালিকার ধর্ষণ নিয়ে আজও উত্তাল হল উপত্যকা। দোষীর শাস্তির দাবিতে পথে নামলেন পড়ুয়া, আইনজীবী-সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন যুবক।

গত কাল বান্দিপোরার সুম্ভল এলাকায় এক নাবালিকার ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ, সুম্ভলে ওই তিন বছরের মেয়েটির বাড়ির কাছেই থাকে অভিযুক্ত তাহির আহমেদ মির। শুক্রবার রাতে ওই নাবালিকার বাড়িতে যায় সে। তার পরে লজেন্সের লোভ দেখিয়ে শৌচালয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে ওই যুবক। পরে মেয়েটির কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পেরে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান তার বাবা-মা। তাহিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে আপাতত পুলিশ হেফাজতে। 

ঘটনার কথা সামনে আসতেই শ্রীনগর-সহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় বিক্ষোভ। দোষীর শাস্তি চেয়ে সরব হন সাজ্জাদ লোন, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতির মতো নেতারা। আজ শ্রীনগরের প্রেস এনক্লেভে বিক্ষোভ দেখান জম্মু-কাশ্মীর ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের সদস্যেরা। সংগঠনের নেতা মৌলানা মাসরুর আব্বাস আনসারি বলেন, ‘‘এই ধরনের মামলায় সরকার সব সময়েই আশ্বাস দেয়। পরে উপযুক্ত পদক্ষেপ করে না।  পোশপোরা, উরি-সহ অনেক এলাকায় এমন ঘটনা নিয়ে মামলা এখনও ঝুলে আছে। সরকার নির্যাতিতাদের সুবিচারের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’’ এই ঘটনার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উপরে বলপ্রয়োগ না করতে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের প্রশাসনকে অনুরোধ করেছিলেন সাজ্জাদ লোন। কিন্তু আজ হিংসা এড়ানো যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বারামুলার পাট্টানে বিক্ষোভের সময়ে বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে যুবকদের একাংশ। জবাবে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে বাহিনী। তাতে অন্তত ১২ জন যুবক আহত হন। তাঁদের মধ্যে আরশাদ আহমেদ দার নামে এক যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে শ্রীনগরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কাঁদানে গ্যাসের শেল আরশাদের মাথায় লেগেছে। দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপোরেও পড়ুয়াদের সঙ্গে বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। বান্দিপোরার ঘটনার প্রতিবাদে গান্ধেরবালের ডিগ্রি কলেজ ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এ দিন ক্লাস বয়কট করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভ হয় উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা, দক্ষিণ কাশ্মীরের ত্রালেও। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

ক্ষোভে উত্তাল কাশ্মীর। ছবি: পিটিআই।

কাঠুয়ায় নাবালিকার ধর্ষণ ও খুন নিয়ে উত্তাল হয় রাজ্য। অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়ানোয় বিজেপি নেতা লাল সিংহকে বনমন্ত্রী পদ থেকে বরখাস্ত করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। বান্দিপোরার ঘটনাতেও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন।