ফের আয়কর দফতরের নজরে মায়াবতী। বিএসপি সুপ্রিমোর ভাইয়ের ৪০০ কোটির প্লট বাজেয়াপ্ত করল আয়কর দফতর। নয়ডার গৌতম বুদ্ধ নগরের প্রায় সাত একরের ওই প্লটে বিলাসবহুল হোটেল ও আনুষঙ্গিক নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্লটটি মায়াবতীর ভাই তথা বহুজন সমাজ পার্টির জাতীয় সহ সভাপতি আনন্দ কুমার এবং তাঁর স্ত্রী বিচিত্রা লতার দখলে ছিল। যদিও আয়কর দফতরের অভিযোগ, ওই প্লট ‘বেনামি সম্পত্তি’। সেই কারণেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বেনামি সম্পত্তি কী? বেনামি সম্পত্তি রোধ আইন অনুযায়ী, প্রকৃত যিনি জমির মালিক, সেই নামে না কিনে অন্য কারও নামে কেনা হলেই তা বেনামি সম্পত্তি আইনের আওতায় আসবে। ১৯৮৮ সালে তৈরি হলেও এই আইনের প্রয়োগ শুরু হয়েছে ২০১৬ সালে মোদী সরকার আসার পর। তার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের সম্পত্তির উপর নজরদারি এবং তদন্ত চালাচ্ছেন আয়কর দফতরের কর্তারা। প্রচুর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও হয়েছে। সেই তালিকায় এ বার যোগ হল মায়াবতীর ভাইয়ের এই প্লটও। সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সম্পত্তির বাজারমূল্যের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে এই আইনে।

আনন্দ কুমারের এই প্লট কী ভাবে বেনামি হিসেবে চিহ্নিত হল? আয়কর দফতর সূত্রে খবর, জমিটি রয়েছে অন্তত ছ’টি সংস্থার নামে, যাদের মধ্যে জটিল প্রক্রিয়ায় অংশিদারিত্ব তৈরি করা হয়েছে। আয়কর দফতরের অভিযোগ, এই ছটি সংস্থাই কার্যত ভুয়ো। আর এই সংস্থাগুলি তৈরি করে তার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে টাকা দিয়েছেন আনন্দ কুমার এবং তাঁর স্ত্রী বিচিত্রা।

আরও পডু়ন: বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সব্যসাচী, আক্রমণ রাজ্য সরকারকে

আরও পডু়ন:  ০০৭ নামে পাকিস্তানে গুপ্তচর ছিলেন অজিত ডোভাল! 

আয়কর দফতরের নজরে রয়েছে হাওয়ালা চক্রও। সূত্রের খবর, হাওয়ালার মাধ্যমেই এই বিপুল পরিমাণ টাকা নানা ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে জটিল প্রক্রিয়ায় টাকার লেনদেন হয়েছে। এই টাকার উৎস কী সে সম্পর্কে তথ্য গোপন করা হয়েছে। লেনদেনের প্রক্রিয়াও কাল্পনিক এবং ধোঁয়াশায় ভরা। কী ভাবে পুরো লেনদেন হয়েছে, তা আরও খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি এই সম্পত্তি কেনা-বেচায় মায়াবতীর কোনও হাত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে একটি সূত্রে খবর।