ভারতীয় বায়ুসেনার ৮৭তম প্রতিষ্ঠা দিবসে আজ মিগ-২১ বাইসন ওড়ালেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। শুধু তাই নয়, তাঁর নেতৃত্বে ‘ফ্লাই-বাই’ করে আকাশে নানা কসরত দেখায় যুদ্ধবিমানের বিশেষ দল। ওই অনুষ্ঠানে বায়ুসেনা প্রধান আর কে এস ভদৌরিয়া দাবি করেন, বালাকোট অভিযান দেখিয়ে দিয়েছে জঙ্গি হানার মোকাবিলার ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির বড় বদল এসেছে। 

পুলওয়ামা হামলা এবং বালাকোট অভিযান পরবর্তী সময় পাকিস্তান দাবি করেছিল, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তারা ভারতের একটি সুখোই ফাইটার জেটকে ধ্বংস করেছে। আজ বায়ুসেনা প্রমাণ দিল, ওই দিন ভারতের কোনও যুদ্ধবিমানই ধ্বংস করতে পারেনি পাকিস্তানের এফ-১৬।

বায়ুসেনা দিবসে আজ বার বার ফিরে এসেছে পুলওয়ামা পরবর্তী সময়ে বায়ুসেনার কৃতিত্বের কথা। উত্তরপ্রদেশের লোনি গাজিয়াবাদে হিন্ডন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে মাঝআকাশে বিভিন্ন যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টারের বর্ণাঢ্য প্রদর্শন হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের আকাশে ঢুকে পড়া পাক যুদ্ধবিমানগুলিকে তাড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলি। ওই আকাশ-সংঘাতের ‘মুখ’ হয়ে উঠেছিলেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন। তাঁর নেতৃত্বে আজ ‘ফ্লাই-বাই’-এর কথা ঘোষণার পর দর্শকদের মধ্য থেকে তুমুল হর্ষধ্বনি ওঠে। বায়ুসেনার যে সব অফিসার বালাকোট অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা তিনটি মিরাজ-২০০০, ২টি সুখোই-৩০ এমকেআই বিমান নিয়ে বিশেষ ফর্মেশনে ‘ফ্লাই-বাই’ করেন। বিভিন্ন কসরত দেখান তাঁরা। প্রদর্শনীর শেষে অভিনন্দনকে সংবর্ধনা দেন বায়ুসেনা প্রধান। বায়ুসেনা দিবসে এই প্রথম আপাচে এবং চিনুক হেলিকপ্টারকে একসঙ্গে উড়তে দেখা যায়। এন-৩২ বিমান থেকে আকাশগঙ্গা দলের প্যারা-ড্রপিংয়ের মাধ্যমে প্রদর্শনী শুরু হয়। 

বায়ুসেনা প্রধান আজ পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে সন্ত্রাসবাদীদের মোকাবিলায় সরকারের পাল্টে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি তোলেন। ভদৌরিয়া বলেন, ‘‘পুলওয়ামার ঘটনার পর বালাকোট অভিযান থেকে স্পষ্ট, জঙ্গি হামলার মোকাবিলায় সরকারের অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে। ওই অভিযান রাজনৈতিক নেতৃত্বের কঠোর মনোভাবের ফল। সন্ত্রাসের কারিগরদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ করেছিল সরকার।’’ তাঁর দাবি, পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে হামলা চালানোর ক্ষমতা যে বায়ুসেনার রয়েছে, বালাকোট তার প্রমাণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন (সাম্মানিক) সচিন তেন্ডুলকর।

যুদ্ধবিমানের প্রদর্শনীর ছবি প্রকাশ করে বায়ুসেনা জানিয়েছে, যে সুখোই যুদ্ধবিমান ‘অ্যাভেঞ্জার-১’ ধ্বংসের দাবি পাকিস্তান করেছে, তা আজ আকাশে উড়েছে। মাঝে ৯ স্কোয়াড্রনের তিনটি মিরাজ-২০০০ এবং তাকে ঘিরে দু’টি সুখোই-৩০ ‘অ্যাভেঞ্জার-১’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার-২’। বায়ুসেনার দাবি, নিজেদের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসের খবর ধামাচাপা দিতেই সুখোই ধ্বংসের খবর প্রচার করেছিল পাকিস্তান।