সদ্য অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন অরুণ জেটলি। নতুন করে দায়িত্ব বুঝে নিয়েই তাঁর অনুপস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানো পীযূষ গয়ালের সময়কার সমস্ত ফাইল খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিলেন জেটলি। কেন্দ্রীয় অর্থসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গত তিন মাসে, যে সময়ে তিনি কিডনির অসুস্থতার কারণে মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন না সে সময়ের সমস্ত ফাইল নিয়ে জেটলির সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য।

অর্থ মন্ত্রক সূত্রের অবশ্য দাবি, এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কারণ জেটলি গত তিন মাসে দায়িত্বে ছিলেন না। ফলে ওই সময়ে মন্ত্রকের খুঁটিনাটি কী সিদ্ধান্ত হয়েছে সে সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতেই ফাইল চেয়েছেন তিনি। তা ছাড়া মন্ত্রকের কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রশ্নেও তাঁর অনুপস্থিতিতে কী কাজ হয়েছে তা পর্যালোচনা করাটা তাঁর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তাই তিনি ওই ফাইল চেয়ে পাঠান। অর্থ মন্ত্রকের একাংশ যাকে বলছে রুটিন পদক্ষেপ। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে তা হলে কি পর্যালোচনার পরে গয়ালের সময়ে কোনও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে? মন্ত্রক সূত্রের মতে, জেটলি
যদি মনে করেন অস্থায়ী অর্থমন্ত্রী গয়ালের নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত নয় তা হলে তা পরিবর্তন করা যেতেই পারে।

তবে ফাইল চেয়ে পাঠানোর ওই আপাত ‘নিরীহ’ ঘটনা ‘ভ্রুকুটি’ জাগিয়েছে শিল্পমহলের একাংশে। কারণ পীযূষ গয়াল অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পরে কোনও কোনও শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক বার সরব হয়েছেন বিরোধীরা। বিতর্কও দানা বেঁধেছে। পীযূষের আমলে অর্থ মন্ত্রকে যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছিল সেগুলির মধ্যে রয়েছে ব্যাঙ্কের আমানত সুরক্ষা বিল প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং সশক্ত প্রকল্প নিয়ে আসা। এ ছাড়াও বাদল অধিবেশনে অনাদায়ী ঋণের সমস্যার সমাধানে দেউলিয়া আইনে সংশোধন করে অর্থ মন্ত্রক। ওই সংশোধনী এনে বিশেষ একটি শিল্পগোষ্ঠীকে সুবিধে পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে, এই যুক্তিতে ওই সংশোধনীর বিরুদ্ধে সংসদ ও সংসদের বাইরে সরব হন বিরোধীরা। ফলে স্বল্পমেয়াদের হলেও গয়ালের সময়কাল ঘিরে বিতর্ক ছিল পূর্ণমাত্রায়।

নজরে কী কী

• অনাদায়ী ঋণের সমস্যার সমাধানে দেউলিয়া আইনে সংশোধনী আনা

• সশক্ত প্রকল্প চালু করা

• ব্যাঙ্কের আমানত সুরক্ষা বিল প্রত্যাহার করা

• বহু পণ্যে জিএসটির হার কমিয়ে দেওয়া

• রুগ্‌ণ আইডিবিআই ব্যাঙ্ককে এলআইসি-র অধিগ্রহণ

অসুস্থতার জন্য নিজের মন্ত্রক খুইয়ে পদহীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে ছিলেন জেটলি। সে সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সুস্থ হলে ফের মন্ত্রকের দায়িত্ব নেবেন তিনি। কিন্তু ঘটনা হল জেটলি গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আগে থেকেই একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠী জেটলিকে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর জন্য সক্রিয় ছিল। ঘটনাচক্রে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য বাধ্য হয়েই তিন মাস সরে যেতে হয় জেটলিকে। পরিবর্তে আসেন পীযূষ।

বিজেপি সূত্রের মতে, শেষ পর্যন্ত কোনও অনিয়ম পেলেও তা নিয়ে অর্থমন্ত্রী হিসেবে জেটলি কতটা সরব হতে পারবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ লোকসভা ভোট এসে গিয়েছে। ওই পরিস্থিতিতে এক অর্থমন্ত্রী তাঁরই এক পূর্বসুরির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিলে বা তা নিয়ে সর্বসমক্ষে প্রশ্ন তুললে তাতে বিরোধীদের হাত শক্ত হবে। প্রশ্ন উঠবে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও। যা কোনও ভাবেই হতে দিতে চাইবেন না খোদ প্রধানমন্ত্রীই।