BJP performed well as a individual party, although defeated by Alliance In Bihar Vote - Anandabazar
  • 1
  • নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

তেমন কমেনি ভোট, ভরাডুবি জোটের জোরেই

1
সোমবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির সংসদীয় বৈঠক শুরু হওয়ার আগে। ছবি: পিটিআই।
  • 1

Advertisement

বিহারে লোকসভা ভোটে ৪০টির মধ্যে ২২টি আসনে জেতা বিজেপি দেড় বছরের মাথাতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বিধানসভায়। ২৪৩টি আসনের মধ্যে তাদের প্রাপ্তি মাত্র ৫৩। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এত তাড়াতাড়ি মোদী হাওয়া মুছে গেল কেন? আর কী ভাবেই বা গেল?

বিজেপি সূত্রের দাবি, আসন প্রাপ্তির নিরিখে ফল শোচনীয় বলে মনে হলেও ভোটের শতকরা হারের দিকে তাকালে দলের অবস্থা ততটা খারাপ বলে মনে হবে না। এ বারের ভোটে দলগত ভাবে তারাই সব চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে, ২৪.৪ শতাংশ। শুধু তা-ই নয়, গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এ বার অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে বিজেপির ভোট। ২০১০ সালে দলের ঝুলিতে গিয়েছিল ১৬.৪ শতাংশ ভোট।

তা হলে এমন ভরাডুবি হল কেন? বিজেপির ব্যাখ্যা, বিরোধী তিন দলের ভোট একজোট হওয়াতেই এমন হাল। মহাজোটের তিন শরিক— জেডিইউ, আরজেডি এবং কংগ্রেস, তিন দলেরই ভোট গত বিধানসভার তুলনায় কমেছে। কিন্তু সব মিলিয়ে তারা ছাপিয়ে গিয়েছে এনডিএ-কে। আর যে জায়গায় বিজেপি-কে টেক্কা দিয়েছে মহাজোট সেটা হল, প্রতিটি আসনে তাদের প্রার্থী তিন শরিকেরই ভোট পেয়েছে। বিরোধী শক্তির এই ঐক্যই ভোট বাক্সে ফারাক গড়ে দিয়েছে বলে বিজেপির ওই সূত্রের দাবি। এ প্রসঙ্গে তাঁরা মনে করাচ্ছেন, শিলিগুড়ি পুরভোট ও পঞ্চায়েত ভোটের কথা। সেখানে দু’দফায় বাম-কংগ্রেস নিচুতলাতেও একজোট হওয়ায় তৃণমূলের পরাজয় হয়েছে।

বিহারে হারের ব্যাখ্যা দিয়ে নরেন্দ্র মোদীর সেনাপতি অরুণ জেটলি আজ বলেন, ফল পর্যালোচনা করে প্রাথমিক ভাবে দলের মনে হয়েছে, পাটিগণিতের অঙ্কেই তারা হেরেছে। আজ মোদী এবং অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠকে বিহার ভোটের কাটাছেঁড়া করা হয়। তার পর জেটলি জানান, গত লোকসভা ভোটে লালু-নীতীশ-কংগ্রেস আলাদা লড়েছিল। এ বার তারা মহাজোট বানিয়েছে। বিজেপি ধরে নিয়েছিল মহাজোটে তেলে-জলে মিশ খাবে না। কিন্তু সেটিই হয়েছে। লালু-নীতীশ-কংগ্রেসের সম্মিলিত শক্তি হারিয়ে দিয়েছে বিজেপি-কে।

জেটলির কথায়, ‘‘লোকসভা নির্বাচনে সকলে আলাদা লড়ায় বিজেপি তার সুবিধা পেয়েছিল। যার ফলে সেই সময় সব থেকে বড় শক্তি আরজেডির থেকেও বেশি আসন পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এ বারে তিনটি দল একজোট হওয়ায় একে অপরের ভোট বাড়াতে পেরেছে। কংগ্রেসও অন্য শরিকদের ভোট পেয়ে আসন বের করে নিয়েছে।’’

অতীতে ভোট বেশি পেয়েও আসন কম পাওয়ার ভূরি ভূরি নিদর্শন রয়েছে। গত লোকসভাতেই উত্তরপ্রদেশে ভোটের হিসেবে তৃতীয় স্থানে থেকেও একটিও আসন পাননি মায়াবতী। কিন্তু পরে স্থানীয় নির্বাচনগুলিতে তাঁর শক্তি দেখাতে পেরেছেন। বিজেপি নেতারা বলছেন, মহাজোট একজোট না হলে এ বারেও আসন বেরিয়ে যেত। গত লোকসভা ভোটে এনডিএ ৪০টির মধ্যে ৩১টি আসন পায়। বিধানসভার নিরিখে হিসেবে করলে ১৭২টি। কিন্তু যাবতীয় হিসেব গরমিল হয়ে গেল মহাজোট এক হওয়াতে এবং একে অন্যের ভোট পাইয়ে দিতে। জেটলি বলেন, ‘‘আমাদের যে শক্তি রয়েছে, তা স্পষ্ট। তাকে পুঁজি করে ভবিষ্যতে ভিত শক্ত করার চ্যালেঞ্জ স্বীকার করছি।’’

বিরোধীরা অবশ্য এই যুক্তি মানছে না। তাদের বক্তব্য, ভোটের শতকরা হিসেবকে সামগ্রিক মতদানের নিরিখে বিচার করা ঠিক নয়। দেখা উচিত কোন দল কত আসনে লড়েছে এবং সেখানে কত ভোট পেয়েছে। তারা বলছে, গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি ১০২টি আসনে লড়েছিল। এ বার লড়েছে ১৫৯টি আসনে। ফলে ভোটপ্রাপ্তির পরিমাণ তো স্বাভাবিক ভাবেই বেশি হবে। কিন্তু শুধু লড়া আসনগুলির ভোটের বিচার করলে দেখা যাবে আদতে বিজেপির ভোট কমেছে। কারণ ২০১০ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১০২টি আসনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৩৯.৬ শতাংশ।

একই কথা খাটে জে়ডিইউ, আরজেডির ক্ষেত্রেও। ২০১০ সালে নীতীশের দল ১৪১টি আসনে লড়ে ১১৫টিতে জিতেছিল। এ বার তারা লড়েছে মাত্র ১০১টি আসনে। জিতেছে ৭১টি। যদি কম আসনে লড়া হয়, তা হলে সামগ্রিক ভাবে ভোটের হার তো কমবেই, বলছেন জেডিইউ নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, তুল্যমূল্য বিচার যদি করতেই হয়, তবে সাফল্যের হার নিয়ে করা উচিত। আরজেডি ১০১টি আসনে লড়ে পেয়েছে ৮০টি। তাদের সাফল্যের হার ৮০ শতাংশ। সমসংখ্যক আসনে লড়ে ৭১টিতে জেতা জেডিইউয়ের সাফল্যের হার ৭০ শতাংশ। মহাজোটের তিন নম্বর শরিক কংগ্রেস লড়েছে ৪১টি আসনে। জিতেছে ২৭টিতে। তাদের সাফল্যের হার ৬৬ শতাংশ। অন্য দিকে ১৫৯টি আসনের মধ্যে ৫৩টিতে জেতা বিজেপির সাফল্যের হার মাত্র ৩৪ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনের তুলনাতেও মোদীর দলের ভোট কমেছে বলে দাবি করছে মহাজোট শিবির। ১৭ মাস আগে বিজেপির ভোটপ্রাপ্তির হার ছিল ২৯.৪ শতাংশ। এ বার তা কমে হয়েছে ২৪.৪।

পাটিগণিতের অঙ্কে বিজেপি হেরেছে, জেটলির এমন দাবিকেও এ দিন কটাক্ষ করেছেন মহাজোটের নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, লোকসভা ভোট থেকেই তো মোদী বলে আসছিলেন যে, ভোট পাটিগণিতে হয় না! হয় রসায়নে। এখন তা হলে পাটিগণিতের কথা বলা হচ্ছে কেন!

ভোট বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরোধী জোটের ঐক্য যদি বিজেপির ভরাডুবির একটা কারণ হয়, তা হলে অন্য প্রধান কারণ অবশ্যই জাতপাতের মেরুকরণ। বরাবরের মতো এ বারও বিহারে জাতপাতের অঙ্ক কাজ করেছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ। বিজেপি বলছে, মোদী-অমিত উন্নয়নের স্লোগানে জাতপাতের অঙ্ক ভেঙে দিতে। তাঁরা মনে করেছিলেন যুব সম্প্রদায় জাতের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। অস্মিতার রাজনীতি (আইডেন্টিটি পলিটিক্স) থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বিহার। একদা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া লোহিয়া পরিবার জাতপাতের অঙ্কেই একজোট হয়ে ধরাশায়ী করেছে বিজেপি-কে। উত্তরে মহাজোটের নেতারা মনে করাচ্ছেন, উন্নয়নের নিরিখে মোদীর থেকে মোটেই পিছিয়ে নেই নীতীশ। দশ বছরে তাঁর শাসনে বিহারের উন্নতি হয়েছে। অথচ ১৭ মাসে এখনও বলার মতো কিছু করে দেখাতে পারেননি মোদী। পাশাপাশি, গো-মাংস বিতর্ক, দাদরি হত্যাকে প্রচারের বিষয় করে বিজেপির নিচুতলার নেতারা এবং সঙ্ঘ পরিবার ভোটারদের মেরুকরণের চেষ্টা চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ। সেটাও ব্যুমেরাং হয়েছে।

ফল? বিজেপির হাতে এখন শুধুই পাটিগণিত।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন