• সং‌বাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ট্রেনার জেট চুক্তি নিয়ে তদন্ত শুরু, লক্ষ্য বঢরা-ঘনিষ্ঠ

Robert Vadra
ছবি: এএফপি।

ইউপিএ জমানায় বায়ুসেনার জন্য প্রশিক্ষণ বিমান (ট্রেনার জেট) কেনার চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এফআইআর করল সিবিআই। তাদের অভিযোগ, ২৮৯৫.৬০ কোটি টাকার ওই চুক্তির জন্য সুইৎজারল্যান্ডের ‘পিলেটাস এয়ারক্রাফট লিমিটেড’ বায়ুসেনা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তৎকালীন কর্তাদের প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিল। অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভাণ্ডারীর সংস্থার মাধ্যমে ওই ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। বিষয়টিকে রাফাল চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগের পাল্টা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

সিবিআই জানিয়েছে, ২০০৯-এ সুইস সংস্থা পিলেটাসের কাছ থেকে ৭৫টি ট্রেনার জেট কেনার চুক্তি হয়। পরে সেই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শেষ পর্যন্ত তাতে ছাড়পত্র দেয় ইউপিএ মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি। বায়ুসেনার এক প্রাক্তন প্রধানও ওই চুক্তির পক্ষে জোরদার সওয়াল করেন বলে সিবিআই সূত্রে খবর। কিন্তু কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) এই চুক্তিতে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রয়াত মনোহর পর্রীকর এই বিষয়ে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেন।

এফআইআরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও বায়ুসেনার অঞ্জাতপরিচয় কর্তারা ছাড়া অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সঞ্জয় ভাণ্ডারী, তাঁর সহযোগী দীপক আগরওয়াল, হিমাংশু বর্মার নাম। পাশাপাশি রয়েছে ‘পিলেটাস’ এবং সঞ্জয়ের সংস্থা ‘অফসেট ইন্ডিয়া সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর নামও। ‘পিলেটাস’ সঞ্জয় ও তাঁর স্ত্রী সনিয়া ভাণ্ডারীর বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমেই ঘুষ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল বলে অভিযোগ। গত কাল রাত থেকে সঞ্জয়ের বাড়ি, অফিস-সহ দিল্লি, নয়ডা ও গাজ়িয়াবাদের ৯টি স্থানে হানা দিয়েছে সিবিআই। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সঞ্জয় এখন লন্ডনে।

বায়ুসেনার পাইলটদের  প্রশিক্ষণের জন্য ট্রেনার জেট ব্যবহার করা হয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে হ্যালের তৈরি এইটিপি-৩২ ট্রেনার জেট বারবার ব্যর্থ হওয়ায় সুইস সংস্থার তৈরি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল ইউপিএ সরকার। কিন্তু বিজেপি সূত্রের অভিযোগ, হ্যালকে উপযুক্ত ট্রেনার জেট তৈরির সুযোগ না দিয়েই সুইস সংস্থার কাছ থেকে বিমান তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তার বদলে ঘুষ নিয়েছিলেন সরকারের কর্তারা। এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘‘হ্যালকে বঞ্চিত করে রাফালের অফসেট বরাত অনিল অম্বানীর সংস্থাকে দেওয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিলেন রাহুল গাঁধী। এ বার দেখা যাবে কারা আসলে হ্যালকে বঞ্চিত করেছে।’’ 

রাজনীতিকদের মতে, রাফাল-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এখনও অনড় রাহুল। তাই এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে জবাব দিতে চাইছে মোদী সরকার। পাশাপাশি সঞ্জয় ভাণ্ডারী গাঁধী পরিবারের জামাই রবার্ট বঢরার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। রবার্টের জন্য লন্ডনে বেনামি সম্পত্তি কেনার অভিযোগ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। এই মামলাতেও ওই অস্ত্র ব্যবসায়ীর নাম জড়ানোয় রবার্টের উপরেও চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকে।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদেরYouTube Channel - এ।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন