অস্বস্তি তো ছিলই। গুরুগ্রামের জমি কেলেঙ্কারি নিয়ে ফের নতুন করে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় প্রিয়ঙ্কার স্বামী রবার্ট বঢরার সেই অস্বস্তি বাড়ল কয়েক গুণ। জমি দুর্নীতির অভিযোগ এনে  রবার্ট  ও হরিয়ানার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র সিংহ হুডার বিরুদ্ধে নতুন ভাবে এফআইআর দায়ের করলেন সুরেন্দ্র শর্মা নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগপত্রে রিয়েল এস্টেট সংস্থা ডিএলএফ এবং ওঙ্কারেশ্বর প্রপার্টিজ-এর নামও উল্লেখ করেছেন সুরেন্দ্র। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এ কথা জানান, হরিয়ানার মানেসরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রবার্টের সংস্থা স্কাইলাইট হসপিটালিটি গুরুগ্রামের সেক্টর ৮৩, সিখোপুর, সিকন্দরপুর, খেড়কি দৌলা এবং সিহি-তে সাড়ে ৭ কোটি টাকার বিনিময়ে জমি কিনেছেন। পরে সেই জমিগুলোই ৫৫ কোটি টাকায় বিক্রি করেন।

ভূপেন্দ্র সিংহ হুডা যখন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সে সময়ই রবার্ট গুরুগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় জমি কেনেন। আর জলের দরে সেই জমি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল হুডার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সে সময় ব্যাপক হইচই হয়। হুডা সরকার ও রবার্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয় বিজেপি। ২০১৪-তে হুডা সরকার পড়ে যাওয়ার পর বিজেপি ক্ষমতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের সরকার ফের ওই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৎপর হয়। কী ভাবে জমি কেনার লাইসেন্স পেল রবার্টের সংস্থা, তা নিয়ে তদন্ত করতে ২০১৫-তে একটি কমিটি গঠন করে খট্টর সরকার। সেই তদন্ত চলাকালীনই দুর্নীতির ফের এই অভিযোগ বিজেপির হাতে অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।

আরও পড়ুন: পরিবেশে ত্রাস ছড়াচ্ছে গোমাতার অন্ত্রের গ্যাস

যাঁর বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ, সেই রবার্ট বঢরা কিন্তু প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উল্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই বিজেপি তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। কংগ্রেসকে কালিমালিপ্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। আগের মতো এ বারও দুর্নীতির অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে দিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেন, এখন ভোটের মরসুম চলছে। মূল্যবৃদ্ধির মতো আসল সমস্যা থেকে দেশবাসীর দৃষ্টি ঘোরাতেই এখন জমি দুর্নীতির  হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি।

 

আরও পড়ুন: ‘খায় না যে, তারও খাতা থাকে’

 

(রাজনীতি, অর্থনীতি, ক্রাইম - দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)