জাদুঘরের সব ঠিকঠাক আছে কি না, প্রতি দিনের মতোই  সোমবার রুটিন নজরদারি চালাচ্ছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। একটা ঘরের সামনে এসেই থমকে যান তাঁরা। ঠিক দেখছেন তো! না কি চোখের ভুল? আরও একটু কাছে যেতেই আঁতকে উঠলেন তাঁরা। ঘরে রাখা মহামূল্যবান সোনার টিফিন বাক্সটাই উধাও! মুহূর্তে গোটা জাদুঘরে খবরটা চাউর হয়ে যায়। ছুটে আসেন ঊর্ধ্বতন অফিসাররাও।

এখানেই শেষ নয়, আরও চমক অপেক্ষা করছিল জাদুঘরের কর্মীদের জন্য। আর কিছু খোয়া গিয়েছে কি না খতিয়ে দেখতে ঘরের ভিতরে ঢুকতেই আশঙ্কাটা যেন দ্বিগুণ হয়ে ধরা দিল কর্মীদের মধ্যে। না, শুধু টিফিন বাক্সটাই নয়, তার সঙ্গে চুরি গিয়েছে রত্নখচিত একটা কাপ, একটা প্লেট এবং একটা চামচ। রবিবার পর্যন্তও তো সব নির্দিষ্ট জায়গাতেই ছিল, সব ঠিকঠাক খতিয়েও দেখা হয়েছিল, এমনটা কর্মী থেকে নিরাপত্তারক্ষীদের মুখে মুখে ফিরছিল। তা হলে?  জদুঘর কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, রবিবার রাতের মধ্যেই কাজটা সেরে ফেলেছে চোর। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চুরি যাওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি।

ঘটনা হায়দরাবাদের নিজাম মিউজিয়ামের। শহরের এই ‘পুরানি হাভেলি’র দোতলায় ছিল মহামূল্যবান ওই জিনিসগুলো। মিউজিয়ামের কর্মীরা দেখেনঘরের একটি ভেন্টিলেটর ভাঙা। ঘরের ভিতরে ঢুকতে দড়ির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁদের ধারণা। কিন্তু কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কী ভাবে এমন কাণ্ডটা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হায়দরাবাদের পুলিশ প্রধান অঞ্জনি কুমার শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে মিউজিয়াম ঘুরে দেখে গিয়েছেন। সব দেখেশুনে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, বাইরের কেউ নয়, এই ঘটনায় মিউজিয়ামের লোকই জড়িত।যদিও তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। আসল সত্যটা বের করে আনার জন্য পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, চুরি যাওয়া জিনিসগুলো সপ্তম নিজামের।

আরও পড়ুন: বম্বে হাইকোর্টে তুলোধোনা পুলিশকে

‘হিজ এক্সল্টেড হাইনেস’ নামেও পরিচিত নিজাম মিউজিয়াম। ১৯১১ থেকে ১৯৪৮-এর মধ্যে হায়দরাবাদের শাসক মীর ওসমান আলি খান বাহাদুর যে সব মূল্যবান উপহার পেয়েছিলেন সেগুলো সবই এই মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জঙ্গি দলে যোগ দিচ্ছে হাজিনের বহু যুবক

 

(কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, গুজরাত থেকে মণিপুর - দেশের সব রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)