ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বহু দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক সংগঠনগুলি সক্রিয়। গ্রামেগঞ্জে মহিলাদের ন্যাপকিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে একাধিক কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

ভারতে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের মধ্যে ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি চূড়ান্ত ভাবে অবহেলিত। ন্যাপকিনের পরিবর্তে সেখানে বিকল্প ব্যবস্থার উপরেই ভরসা করেন বেশির ভাগ মহিলা। সে কারণে নানা ধরনের রোগ ও মাতৃত্বকালীন জটিলতা দেখা দেয়। স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার এ ক্ষেত্রে বিশেষ কাজে দেয়।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ন্যাপকিন পাওয়া গেলেও বেশি দামের জন্য তা সাধারণে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। তাই সচেতনতা প্রচারের পাশাপাশি, বিভিন্ন সময় কম দামে ন্যাপকিন বিলির নানা প্রকল্পও চালু রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু, এই প্রকল্পগুলি ব্যাপক হারে ধাক্কা খায় জিএসটি চালুর পর থেকে। ন্যাপকিনের আসল দামের উপর ১২ শতাংশ করের বোঝা চেপে সেগুলি আরও দুর্মূল্য হয়ে ওঠে। ফলে সমস্যায় পড়েন মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েরা।

আরও পড়ুন: 

রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপালদের গাড়িতেও এ বার নম্বর প্লেট

কাঁপছে লাহুল-স্পিতি, এটিএম সচল রাখতে ‘গায়ে’ কম্বল, রুম হিটার!

ন্যাপকিনের উপর থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদও হয়েছে নানা স্তরে। তবুও অনঢ় থেকেছে কেন্দ্র। এ বার স্যানিটারি ন্যাপকিনকে করমুক্ত করার প্রয়াসে এক অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেছেন গ্বালিয়রের এক দল পড়ুয়া ও সমাজকর্মী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ওই কর্মসূচি সম্পর্কে বিশদে জানিয়েছেন ওই পড়ুয়ারা। স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপর থেকে কর তুলে নেওয়া হোক। এই বার্তা জানিয়ে প্রায় হাজারখানেক ন্যাপকিন পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। ঋতুকালীন সময় ন্যাপকিনের প্রয়োজনীয়তার কথা লেখা থাকবে প্রতিটি ন্যাপকিনের উপর।

 

৪ জানুয়ারি থেকে ওই কর্মসূচির প্রচার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকর্মী হরি মোহন। ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা মাথায় রেখে শুধু গ্বালিয়র নয় সারা দেশের মহিলাদের স্বার্থেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপর থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের দাবি জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘প্রত্যন্ত এলাকার মহিলারা এমনিতেই ন্যাপকিনের পরিবর্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন। জিএসটি চালুর পর দাম বাড়ায় সেই প্রবণতা আরও বেড়েছে। সচেতনতার প্রচার ধাক্কা খাচ্ছে। কর তুলে নেওয়া হলে মহিলারা আরও বেশি করে ন্যাপকিন ব্যবহার করবেন।’’ শুধু কর তোলা নয়, ন্যাপকিন যাতে বিনামূল্যে পাওয়া যায় সেই চেষ্টাও হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে হরি মোহন লিখেছেন, ন্যাপকিনের উপর সচেতনতার বার্তা লিখতে বলা হয়েছে মহিলাদের। গোটা রাজ্য থেকে এই রকম বার্তা লেখা হাজারখানেক প্যাড আগামী ৩ মার্চের মধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে।