স্কন্দ পুরাণে বর্ণিত দুর্গার মহিষাসুর বধের পটভূমি গঢ়বাল। আর দেবভূমি সেই গঢ়বালে বিপুল সমারোহে উত্তর ভারতের নবরাত্রি উৎসব পালনের মধ্যে বাঙালি প্রথায় মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গার পুজো হয় একমাত্র দেবপ্রয়াগে। সেখানকার রামকৃষ্ণ সারদা মঠে। ভাগীরথী এখানে অলকানন্দার সঙ্গে মিশে গঙ্গা নাম পেয়ে বয়ে চলেছে সনাতন ভারতীয় সভ্যতার ধারক হিসেবে। আর সেই প্রয়াগের অদূরেই এই আশ্রম।

এই পুজোর প্রাণ মঠাধক্ষ স্বামী সর্বাত্মানন্দ। দক্ষিণেশ্বর সারদামঠের দ্বিতীয় অধ্যক্ষ প্রব্রাজিকা মোক্ষপ্রাণাজির কাছে মন্ত্রদীক্ষা পাওয়া স্বামীজির শাস্ত্রীয় পাঠ হৃষিকেশের প্রাচীন প্রতিষ্ঠান কৈলাশ আশ্রম ব্রহ্মবিদ্যাপীঠে। রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের ভাব-প্রচারের জন্য প্রয়াগ সংলগ্ন এলাকায় তিনিই এই মঠটি পত্তন করেন। আর ২০১৪-য় আশ্রম শুরুর পর থেকে শারদীয় দুর্গা পুজোরও সূচনা।

প্রধান পুরোহিত তারকেশ্বরের সৌমিত্র চক্রবর্তী তাঁর চিকিৎসক পেশার ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে এ বারেও পৌঁছে গিয়েছেন দেবপ্রয়াগে। ঢাকি-ঢুলি, তন্ত্রধারকও বাংলারই। কলকাতা ও দিল্লি থেকে এসেছেন ভক্তরা। বুধবার সকালে পূণ্য প্রয়াগে কলাবউ স্নান হয়েছে মহা সমারোহে। পঞ্চধাতুর প্রতিমাটি স্থায়ী। পুজোর ক’দিন মূল প্রতিমার পাশে থাকবে রামকৃষ্ণ, সারদামণি ও বিবেকানন্দের ছবিও। দুর্গাপুজো উপলক্ষে এই ক’দিন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে পাতপেড়ে ভোগ খাওয়া।

গড়ে ওঠার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে বৌদ্ধিক ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা প্রসারের কাজ করে চলেছে দেবপ্রয়াগের রামকৃষ্ণ সারদা মঠ। বেশ কিছু দুঃস্থ কিশোর আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করে। এ বছর থেকে ৪০টি শিশুর নিঃশুল্ক শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে আশ্রম। স্থানীয় স্কুল-কলেজে মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের কর্মশালা আয়োজন করা হয় আশ্রম থেকে।