• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জমি বিল নিয়ে কি জমি ছাড়ছে কেন্দ্র

1

এটা স্রেফ কথার কথা! নাকি ভাঙবেন তবু মচকাবেন না!

কাল থেকে শুরু সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগে আজ সবর্দল বৈঠকে ফের জমি বিল সংশোধনের প্রসঙ্গ তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে উপস্থিত সমাজবাদী পার্টি নেতা রামগোপাল যাদবের কথায়, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, আগে যা হয়েছে, হয়েছে। জমি বিল সংশোধনের জন্য এ বার ইতিবাচক ভাবে আমাদের এগোনো উচিত।’’

কিন্তু ঘটনা কি তা-ই? বরং সরকারের শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, এটা ঠিকই জমি বিল সংশোধনের জন্য মোদী তথা কেন্দ্রের ওপর শিল্প মহলের চাপ রয়েছে। তাই এ নিয়ে আগ্রহের কথা প্রকাশ্যে জিইয়েই রাখতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু আপাতত জমি আইন সংশোধন নিয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতিতেই এগোতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী-অরুণ জেটলিরা। এমনকী সরকারের একটি শীর্ষ সূত্রের দাবি, শুধু বাদল অধিবেশন কেন, বিহার ভোটের আগে পর্যন্ত জমি বিল নিয়ে নাড়াচাড়া না করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। সরকারের মধ্যে এমন ভাবনাও রয়েছে যে, জমি আইনকে সংস্কারমুখী করার দায়িত্ব ঘাড় থেকে নামিয়ে রাজ্যগুলির উপরে চাপানো হবে। জমি নিয়ে সরকারের মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, এই সংক্রান্ত সংসদীয় যৌথ কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে। আগে ঠিক ছিল, বাদল অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহে যৌথ কমিটি তাদের সুপারিশ পেশ করবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পিছিয়ে ৩ অগস্ট করে দিতে আজ শাসক শিবিরই রাজি হয়েছে! বলাবাহুল্য, ৩ অগস্টের পরে বিল পাশের জন্য আর বিশেষ সময় থাকবে না সরকারের হাতে।

কিন্তু কেন পিছু হাঁটা? গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক সূত্র বলছে, এর কারণ বিবিধ। সংশোধনী বিলটি খতিয়ে দেখতে যে সংসদীয় যৌথ কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেখানে অন্যরা তো বটেই, সঙ্ঘ পরিবারের অনুগামী কৃষক ও শ্রমিক সংগঠনগুলিও যে সব মতামত দিয়েছে, তার প্রায় সবগুলিই সংশোধনের বিরুদ্ধে! সংখ্যার হিসেবে ৬৭২টি মতামতের মধ্যে ৬৭০টিই কমবেশি সংশোধনের বিপক্ষে! এই বিপুল সংখ্যক বিরোধী মতামতকে দুরমুশ করে এগোনো রাজনৈতিক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া, জমি বিলটি নিয়ে সরকারের গায়ে গরিব-বিরোধী তকমা সেঁটে দিতেও তৎপর বিরোধীরা। বিজেপির একাধিক নেতা মনে করেন, এ ব্যাপারে অনেকটাই সফল কংগ্রেস-বামেরা। তা ছাড়া, সরকার তথা বিজেপির কাছে পরিষ্কার যে, জমি আইনের তুলনায় পণ্য পরিষেবা কর নিয়ে সংসদে সর্বসম্মতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষ করে তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলি এ ব্যাপারে পাশে। কিন্তু জমি নিয়ে এদের বিরোধিতা বজায় রয়েছে। তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আমরা ইউপিএ সরকারের সময়েও বলেছি, এই সরকারকেও বলেছি, এই জমি বিল বাতিল করো এবং এ নিয়ে একটি সর্বদলীয় বৈঠক করো।’’

জমি বিল নিয়ে আপত্তির কথা সর্বদল বৈঠকে স্পষ্ট করেছে আঞ্চলিক দলগুলিও। পণ্য পরিষেবা কর বিলে সমর্থনের ইঙ্গিত দিলেও সপা নেতা রামগোপাল যাদব বলেন, ‘‘সরকার আগে জমি আইন সংশোধনের প্রস্তাবগুলি বাতিল করুক। তার পর সর্বসম্মত ভাবে সংশোধন প্রস্তাব নেওয়া হোক। না হলে একদিকে যৌথ কমিটি বিলটি বিবেচনা করবে, অন্য দিকে সরকার অধ্যাদেশ জারি করে যাবে, এটা চলতে পারে না।’’

বিজেপি সূত্র বলছে, দল ও সঙ্ঘের বড় অংশ চায়, জমি-বিতর্ক থেকে সরে আসা হোক। সরকারের এখন বলা উচিত, জমি অধিগ্রহণ নীতিকে শিল্প ও উন্নয়নের সহায়ক করে তুলতে হলে রাজ্যগুলিই কেন্দ্রের প্রস্তাবিত নীতি মানতে পারে। কেন্দ্রে কারও ওপর তা জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছে না।

প্রশ্ন হল, সংসদে এ যাত্রাতেও সংশোধন বিলটি পাশ না হলে সরকার কি ফের অধ্যাদেশ জারি করবে? গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক সূত্র বলছে, তা ছাড়া উপায়ও নেই। কারণ, ইউপিএ জমানায় পাশ হওয়া বর্তমান আইনে বলা হয়েছিল, ১ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে রেল, জাতীয় সড়ক, পরমাণু প্রকল্প-সহ ১৩টি ক্ষেত্রে নয়া জমি আইনের সমতুল পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেই নীতি কার্যকর করতে হলে ওই ১৩টি ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মের সংশোধন প্রয়োজন। ফলে এখন যদি সরকার মূল জমি আইন সংশোধনের প্রস্তাব থেকে সরেও আসে, তা হলেও অধ্যাদেশটি জারি করা জরুরি।

তবে জমি নিয়ে রাহুল গাঁধীর আক্রমণের মোকাবিলা করার ব্যাপারে সরকারপক্ষ আগ্রাসী মনোভাবই দেখাবে। বিজেপি মুখপাত্র এম জে আকবর বলেন, ‘‘রাহুল যে বলছেন, এক ছটাক জমিও নিতে দেবেন না, তার সঙ্গে জমি আইনের সম্পর্ক নেই। এটা উনি ওঁর জামাইবাবুর (রবার্ট বঢরা) হরিয়ানার জমি ও বোন প্রিয়ঙ্কার শিমলার জমি সম্পর্কে বলছেন!’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন