শোপিয়ান ও অনন্তনাগে সংঘর্ষে ১৩ জন জঙ্গির মৃত্যুর জেরে আজ কার্যত স্তব্ধ রইল কাশ্মীর। পরিস্থিতির অবনতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির ব্যর্থ নীতিই দায়ী বলে দাবি করেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লা।

শোপিয়ান ও অনন্তনাগে জঙ্গি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আজ কাশ্মীরে হরতালের ডাক দিয়েছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি। গোলমালের আশঙ্কায় শ্রীনগর, শোপিয়ান, অনন্তনাগের নানা প্রান্তে কার্ফুর মতো বিধিনিষেধ জারি করে রাজ্য প্রশাসনও। বন্ধ ছিল স্কুল কলেজ, দোকানপাট, ব্যাঙ্ক, পেট্রল পাম্প। সকালে প্রতিবাদ মিছিল করতে গিয়ে গ্রেফতার হন জেকেএলএফ নেতা ইয়াসিন মালিক। হুরিয়ত নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি ও মিরওয়াইজ ওমর ফারুককে গৃহবন্দি করা হয়। আগামিকালও হরতাল ডেকেছেন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

উপত্যকায় পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির কড়া সমালোচনা করেছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘গত কাল যারা নিহত হয়েছে তারা সবাই স্থানীয় যুবক। ২০১৬ সালে বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পরে এই যুবকেরা জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছিল।’’ ওমরের মতে, কাশ্মীরি তরুণেরা এখন আরও বেশি সংখ্যায় জঙ্গি সংগঠনের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। এই স্রোত রুখতে না পারাই মেহবুবার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

তবে বাহিনী ও প্রশাসন স্থানীয় যুবকদের প্রতি যতটা সম্ভব মানবিক হওয়ার চেষ্টা করছে বলে পুলিশের। উদাহরণ হিসেবে অনন্তনাগে দিয়ালগামের ঘটনাকে তুলে ধরছে তারা। অনন্তনাগের এসএসপি আলতাফ আহমেদ খান জানান, শনিবার রাতে ওই এলাকার একটি বাড়িতে দুই জঙ্গি লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে অভিযানে নামে বাহিনী। আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেওয়ায় এক জঙ্গি সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে এসে ধরা দেয়। কিন্তু অনন্তনাগেরই বাসিন্দা রউফ খান্ডে কোনও যুক্তিই মানতে রাজি হয়নি। তার বাবা-মাকেও ঘটনাস্থলে নিয়ে এসেছিল পুলিশ। তাঁরা বাড়ির ভিতরে গিয়েও ছেলের মত পরিবর্তন করতে পারেননি। প্রায় ছ’ঘণ্টা দর কষাকষির পরে কার্যত বাধ্য হয়েই রউফের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযানে নামে বাহিনী।