লোকসভায় পাশ হয়েও রাজ্যসভায় আটকে গেল জালিয়ানওয়ালা বাগ জাতীয় স্মারক (সংশোধনী) বিল। এই বিলে জালিয়ানওয়ালা বাগের অছি পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে কংগ্রেস সভাপতিকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের প্রস্তাব, লোকসভার সবথেকে বড় বিরোধী দলের নেতাকে অছি পরিষদের সদস্য করা হোক।

রাজ্যসভায় বিনা আলোচনাতে আজই এই বিল পাশ করাতে চেষ্টা করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। তবে বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে সর্বসম্মতি না হওয়ায় বিল নিয়ে আলোচনা পিছিয়ে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রহ্লাদ পটেল বলেন, এ বছর জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের শতবর্ষ। এ ছাড়া, অছি পরিষদের সদস্যদের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে বিলটি আজই পাশ করানো হোক। নভেম্বরে সংসদের অধিবেশন বসলে এ ব্যাপারে আলোচনা করা যেতে পারে বলে সরকারের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়। কংগ্রেসের আনন্দ শর্মা ও সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব বলেন, সুষমা স্বরাজের মৃত্যুর পরে আজ সংসদে যেন কোনও রকম হইচই না হয়। এই পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি দলের নেতারা রাজ্যসভার পরের অধিবেশনে এই বিল নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। শেষ পর্যন্ত বিলটি নিয়ে আলোচনা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

আনন্দ শর্মা বলেন, ‘‘সরকারের উচিত স্বাধীনতা সংগ্রামে কং‌গ্রেসের ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া। বড় মনের পরিচয় দিয়ে বিলটি তুলে নেওয়া হোক।’’  কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের জবাব, ‘‘স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের ভূমিকার কথা আমরা জানি। তবে জালিয়ানওয়ালা বাগ স্মারকের সঙ্গে একে জোড়া ঠিক হবে না।’’ বিল পেশ করতে গিয়ে আজ কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘জাতীয় স্মারক রাজনৈতিক স্মারক হতে পারে না। রাজনীতি থেকে এ সবকে দূরে রাখা উচিত।’’ এর আগে, ২ অগস্ট লোকসভায় ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশ হয়। কংগ্রেস অবশ্য ওয়াকআউট করেছিল। বিরোধীদের দেওয়া সংশোধনীর উপর ভোটাভুটি হলে ২১৪-৩০ ভোটে জেতে সরকার।