বিমানের ভাড়া দিতে রাজি হয়নি ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সরকার। তাই নিজের টাকায় টিকিট কেটে রাঁচি থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে ১৬ ঘণ্টার জার্নি করে দিল্লি যেতে হল গুরুতর অসুস্থ লালুপ্রসাদ যাদবকে। দিল্লির ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’ (এআইআইএমএস)-এ ভর্তি হতে।

পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে রাঁচির জেলে বন্দি হওয়ার পর লালু বুকের ব্যথায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসকের নির্দেশে গত ১৭ মার্চ ভর্তি হন রাঁচির একটি হাসপাতালে। কিন্তু তাঁর শারীরীক অবস্থা খুব ভাল নয় বুঝে লালুকে চিকিৎসকরা দিল্লির এইমস-এ ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। তার পরেই দিল্লি যাওয়ার বিমানভাড়ার জন্য লালুপ্রসাদের তরফে আবেদন জনানো হয় ঝাড়খণ্ড সরকারের কাছে। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি ঝাড়খণ্ড সরকার। লালু ডায়াবেটিক রোগী। ২০১৪ সালে তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারিও হয়।

ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সরকারের এই আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওই সরকারেরই এক মন্ত্রী সরযূ রায়। কট্টর লালু-বিরোধী বলে পরিচিত সরযূ বলেছেন, ‘‘সরকারের এই আচরণে অপরিণতমনস্কতার ছাপ রয়েছে। রয়েছে রাজনৈতিক সৌজন্যের অভাবও। গোটা ঘটনা না জানলেও বলতে পারি, লালুর শারীরীক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁর আবেদনে সাড়া দেওয়া উচিত ছিল সরকারের (ঝাড়খণ্ড)। তাতে বিতর্ক এড়ানো যেত।’’

ঝাড়খণ্ড সরকারের এই আচরণে ‘ক্ষমতার দম্ভ’ই প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করছেন আরজেডি নেতা শিবানন্দ তিওয়ারি। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি-র হলটা কী, বুঝতে পারছি না। এত দম্ভ ক্ষমতার? অবাক হয়ে যাচ্ছি, বিজেপি-র প্রবীণ নেতারাও এ সব দেখে মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন।’’

আরও পড়ুন- মানসিক চাপে লালু, বাড়ছে প্রেশার-সুগার​

আরও পড়ুন- পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি: চতুর্থ মামলায় ১৪ বছরের জেল লালুপ্রসাদের​

’৯০-এর অক্টোবরে বিজেপি-র তদানীন্তন সভাপতি লালকৃষ্ণ আডবাণীকে গ্রেফতার করার পর বিহারের তখনকার মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদব যে আডবাণীকে যে চপারে চাপিয়ে তাঁকে দুমকার জেলে নিয়ে এসেছিলেন, সে কথাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি তিওয়ারি।