দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্তকারী প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি এন ভি রামানা। তদন্তকারী প্যানেলে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগকারিণী আপত্তি জানানোর পরই সরে দাঁড়ালেন তিনি।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের এক প্রাক্তন মহিলা কর্মী যৌন হেনস্থার অভিযোগ করার পরই তার তদন্তে তিন সদস্যের একটি প্যানেল তৈরি করে সুপ্রিম কোর্ট। এই প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি এস এ বোবদে।

বুধবারই এই প্যানেলে বিচারপতি এন ভি রামানার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিযোগকারিণী। তাঁর অভিযোগ, ‘‘বিচারপতি রামানা প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যের মতো।’’ বিচারপতি রামানা নিয়মিত রঞ্জন গগৈ-এর বাড়িতে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, গত ২০ এপ্রিল দেশের ২২ জন বিচারপতিকে যখন তিনি হলফনামা পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁর সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন বিচারপতি রামানা।

আরও পড়ুন: ধনী ও ক্ষমতাবানদের হস্তক্ষেপ বিচারব্যবস্থায়, ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, বিচারপতি রামানা বেরিয়ে যাওয়ায় এই প্যানেলে এক জন নতুন বিচারপতিকে আনা হবে খুব শীঘ্রই। অভিযোগকারিণী একই সঙ্গে জানিয়েছেন, তদন্তে গঠিত প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা মহিলা নন, যা দেশের বিশাখা নির্দেশিকার পরিপন্থী। প্যানেলে কোনও বাইরের সদস্য না থাকাতেও আপত্তি তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: মোদীর বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের নালিশ, সমাধান না করেই কমিশনের ঘোষণায় বিভ্রান্তি

গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সমস্ত বিচারপতির উপস্থিতিতে তৈরি করা হয়েছিল এই তিন সদস্যের প্যানেল। এই মুহূর্তে রঞ্জন গগৈ-এর পর সুপ্রিম কোর্টের সব থেকে অভিজ্ঞ বিচারপতি বোবদে। প্যানেলের নেতৃত্বে ছিলেন তিনিই। পাশাপাশি এই প্যানেলের বাকি সদস্যদেরও নির্বাচন করেছিলেন তিনিই।

বিচারপতি বোবদের বক্তব্য ছিল, ‘‘আমি রামানাকে নির্বাচন করেছিলাম, কারণ অভিজ্ঞতার নিরিখে উনি আমার পরেই। পাশাপাশি মহিলা সদস্য হিসাবে রাখা হয়েছিল ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।’’