• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মুক্ত পদ্মাবত, হতাশ হলেও মচকাচ্ছে না করণী সেনা

Lokendra Singh Kalvi
দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে লোকেন্দ্র সিংহ কালভি। ছবি: পিটিআই।

হুমকি ও হিংসার পথে ঠেকাতে পারেননি পদ্মাবতের মুক্তি। ছবিটির সব স্বত্ব কিনে নিয়ে আঁতুড়েই সেটির মৃত্যু ঘটাতে চেয়েছিলেন। সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। এখন তো চার-পাঁচটি রাজ্য ছাড়া গোটা দেশেই মানুষ দেখছেন ছবিটি। বলছেন, বিতর্কিত কিছুই নেই এতে। সব দিক দিয়ে হতাশ করণী সেনা এত দিনে ভরসা রাখছে ‘মানুষের শুভবুদ্ধির উপরে’!

এখনও আন্দোলনের হুমকি দিয়ে চললেও দেশ জুড়ে নিন্দার মুখে পড়ে করণী সেনার সভাপতি লোকেন্দ্র সিংহ কালভির সুর এখন রক্ষ্মণাত্মক। সাংবাদিকদের সামনে আজ তিনি দাবি করেন, গুরুগ্রামের জি ডি গোয়েঙ্কা স্কুল বাসে হামলায় তাঁদের কেউ জড়িত ছিলেন না। রাজপুত-ক্ষত্রিয়েরা স্কুল বাসে হামলা চালানোর মতো ঘৃণ্য কাজ করতে পারে না।

তা হলে করল কারা? পুলিশ জানাচ্ছে, বুধবার গুরুগ্রামে হামলায় ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্কুলবাসে হামলা, সরকারি বাসে আগুন লাগানোর অপরাধে ধরা হয়েছে ১৮ জনকে। ধৃতদের মধ্যে নাবালকেরাও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃতদের অনেকের সঙ্গেই করণী সেনার যোগ রয়েছে।

এটা স্পষ্ট যে, স্কুল বাসে হামলার ঘটনায় সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে বুঝেই তড়িঘড়ি অভিযোগ খণ্ডনে মুখ খুলেছেন কালভি। পদ্মাবতের সব স্বত্ত্ব কিনে নেওয়ার ‘অফার’ দেওয়ার কথা কবুল করেও বলেছেন, ‘‘দীপিকা পাড়ুকোনের মাথা কাটার মতো হুমকি করণী সেনা দেয়নি।’’

করণী সেনার সঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, হিন্দু মহাসভার মতো সংগঠন থাকা সত্ত্বেও যে ভাবে পাঁচ-ছ’টি রাজ্য ছাড়া বাকিগুলিতে এই ছবি রমরমিয়ে চলেছে, তাতে দৃশ্যতই হতাশ কালভি। পরোক্ষে বিজেপিকে দায়ী করে বলেছেন, ‘‘আমাদের আস্থা ও ইতিহাসের সঙ্গে খেলা করা হয়েছে ওই ছবিতে। সম্ভবত রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির অভাবের কারণে এই সিনেমা দেশে ছাড়পত্র পেয়েছে।’’ তাঁদের কারণেই যে ছবিটি বাড়তি প্রচার পেয়েছে, কালভি প্রকারান্তরে তা মেনে নিয়েছেন এ দিন। তবে নিজেদের সাফল্যের খতিয়ান দিতেও ছাড়েননি। বলেছেন, ‘‘সব মিলিয়ে ১৪টি রাজ্যে জনতা কার্ফু চালু রয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে ফিল্মটি।’’ 

গত কাল প্রজাতন্ত্র দিবসে করণী সেনা কোনও বিক্ষোভ দেখায়নি। আগামিকাল থেকে ফের তা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কালভি। দাবি করেছেন, দেশ জুড়ে পদ্মাবতের প্রদর্শন থামাতে এখনও বদ্ধপরিকর তিনি। কিন্তু কী ভাবে তা সম্ভব হবে, তার কোনও দিশা যে তাঁর কাছে নেই, সেটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এ দিন। জানিয়েছেন, ছবিটি বয়কট করার বিষয়টি এখন তিনি জনতার শুভবুদ্ধির উপরেই ছেড়ে দিতে চাইছেন।

তাঁর সমর্থকেরা তবে কেন হিংসার পথ নিচ্ছেন? এর কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি ওই রাজপুত নেতা।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন