অভিযুক্তের পাশে দাঁড়িয়ে, নিগৃহীতার চরিত্র নিয়েই প্রশ্ন তুলে বসলেন কেরলের এক নির্দল বিধায়ক! ধর্ষণে অভিযুক্ত বিশপের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগকারিণী সন্ন্যাসিনীকেই ‘যৌনকর্মী’ বলে মন্তব্য করলেন। তিনি কেরলের পুঞ্ঝারের নির্দল বিধায়ক পিসি জর্জ। আর ওই নিগৃহীতা কেরলের কোট্টায়ামের সাইরো-মালাবার ক্যাথলিক চার্চের সন্ন্যাসিনী। অভিযুক্ত ওই চার্চেরই বিশপ।

চলতি বছরের জুন মাসে ওই চার্চের সন্ন্যাসিনীর আনা ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসে। তার পর থেকে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় দেশে। পুলিশের কাছে ওই সন্ন্যাসিনী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পাল্টা ওই বিশপ অভিযোগ করেন, বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা না পাইয়ে দেওয়াতেই ওই সন্ন্যাসিনী তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। এ সবের মধ্যে শনিবারই অভিযুক্ত বিশপকে গ্রেফতারের দাবিতে কেরলের রাস্তায় নামেন অন্য সন্ন্যাসিনী এবং ধর্মযাজকরা। আর সে দিনই কোট্টায়ামে এক সাংবাদিক বৈঠকে নিগৃহীতা সন্ন্যাসিনীর বিরুদ্ধে এই মন্তব্য ছুড়ে দিলেন ওই বিধায়ক।

তিনি বলেন, ‘‘আমি বলছি না যে বিশপ কোনও ভুল করেননি। কিন্তু আপনি যখন ওই সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে তাঁর চরিত্রের তুলনা করছেন, তখন আলাদা ভাবে বিবেচনা করতেই হয়। সন্ন্যাসিনী বলেছিলেন, ১৩ বার যৌন হেনস্থার শিকার তিনি। অথচ ১২ বার যৌন হেনস্থার শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনও অভিযোগ করলেন না, ১৩তম বারে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ করলেন, কী করে সম্ভব?’’ পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, সন্ন্যাসিনী হতে গেলে ‘কুমারী’ হতে হয়। ‘কুমারিত্ব’ খোয়ানোর পর কখনই তিনি সন্ন্যাসিনী থাকতে পারেন না। তা হলে তিনি কী ভাবে এত দিন সন্ন্যাসিনী ছিলেন? যার সঙ্গে গত দু’বছর ধরে কারও যৌন সম্পর্ক রয়েছে, তাঁকে আপনারা কী বলবেন? প্রশ্ন ওই বিধায়কের।

আরও পড়ুন: মমতা এখন বিরোধী থাকলে, কী করতেন? বিরোধীরা বললেন, আর একটা মমতা চান তো!

কোনও খোঁজখবর না নিয়ে অহেতুক তিনি সন্ন্যাসিনীর চরিত্র বিশ্লেষণ করছেন না বলে জানান। অন্যদের মতো প্রথমে তিনিও নাকি ওই বিশপকেই দোষী ভেবেছিলেন। কিন্তু এই বিষয়টা ভাল ভাবে খতিয়ে দেখার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, ওই সন্ন্যাসিনী আসলে জটিলতা বাড়াচ্ছেন। পুরোটাই বিশপকে ফাঁসানোর চেষ্টা। নিগৃহীতা সন্ন্যাসিনী-সহ আরও তিন সন্ন্যাসিনী যাঁরা নিগৃহীতার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বিধায়কের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন কেরলের প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি ভিএস সুধীরান। ফেসবুকে বিধায়কের মন্তব্যের বিরোধিতা করে পোস্ট করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: মরফিন ভাইরাস! মাছ খেলে অনিবার্য মৃত্যু, ছড়িয়ে পড়েছে বনগাঁয়, সত্যি!

ঠিক কী ঘটেছিল?

পঞ্জাবের জালন্ধরের রোমান ক্যাথলিক ডায়সেসের অধীন ওই চার্চটি। চার্চের এক সন্ন্যাসিনী পুলিশে অভিযোগ করেন, দীর্ঘ চার বছর ধরে বিশপ তাঁর উপর যৌন নির্যাতন করছেন। একাধিক বার ধর্ষণও করা হয় তাঁকে। ওই সন্ন্যাসিনীর অভিযোগ, ২০১৪ সালের মে মাসে কুরাভিলাঙ্গারের একটি গেস্ট হাউসে প্রথমে তাঁকে ধর্ষণ করেন বিশপ। তিনি চার্চ কর্তৃপক্ষকে অভিযোগও জানান। কিন্তু চার্চ কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেননি। তার পর বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বিশপের যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়। সব মিলিয়ে মোট ১৩ বার তাঁকে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, অভিযোগ সন্ন্যাসিনীর। চার্চের তরফে কোনও ন্যায় বিচারের আশ্বাস না পেয়ে মাসখানেক আগে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।