বিজেপির নিশানায় কমল, কুমারস্বামীও
বিভিন্ন সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছে, রাজ্যের ২৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ২০ থেকে ২৮টিই যেতে পারে বিজেপির দখলে। এই পরিস্থিতিতে ইয়েদুরাপ্পা আজ বলেন, ‘‘সব কিছুই নির্ভর করবে ২৩মের ফলাফলের উপর। তত দিন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব।’’
kamalnath

বুথফেরত সমীক্ষায় লোকসভা ভোটে ভাল ফলের ইঙ্গিত মিলতেই  মধ্যপ্রদেশে কমল নাথ ও কর্নাটকে এইচ ডি কুমারস্বামীর সরকার ফেলতে নেমে পড়ল বিজেপি।

মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের দাবি তুলে বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য আজ রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেলকে চিঠি লিখেছেন বিধানসভার বিরোধী নেতা গোপাল ভার্গব। কংগ্রেস শিবিরে ‘অনৈক্য’ এবং সমর্থক দল বিএসপির সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদীর দলের এই রণকৌশল। মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ অবশ্য বিজেপির চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে জানিয়েছেন, আস্থা ভোটে যেতে তিনি রাজি। তাঁর মন্তব্য, ‘‘সরকার গড়ার প্রথম দিন থেকেই
বিজেপি এই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত মাসগুলিতে অন্তত চার বার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেছি। এর পরেও যদি ওরা ফের আমার সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখতে চায়, কোনও অসুবিধা নেই। সরকার আস্থা ভোটে যেতে তৈরি।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

বুথফেরত সমীক্ষা উত্তাপ ছড়িয়েছে কর্নাটকেও। সেখানেও কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও সুতোয় ঝুলছে। ২২৫ আসনের বিধানসভায় বিজেপির হাতে ১০৪টি আসন। শাসক জোটের ভিতরে অস্থিরতার হাওয়া তুলে রাজ্যের বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা দীর্ঘ দিন থেকেই সরকার ফেলার চেষ্টা করে চলেছেন। শুরু থেকেই তাঁর দাবি, কুমারস্বামীকে মেনে নিতে পারছেন না কংগ্রেসের অনেক বিধায়ক। তাঁরা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বুথফেরত সমীক্ষা সেই
প্রয়াসে হাওয়া দিয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছে, রাজ্যের ২৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ২০ থেকে ২৮টিই যেতে পারে বিজেপির দখলে। এই পরিস্থিতিতে ইয়েদুরাপ্পা আজ বলেন, ‘‘সব কিছুই নির্ভর করবে ২৩মের ফলাফলের উপর। তত দিন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব।’’

মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় মোট আসন ২৩১টি। এর মধ্যে ১ জন মনোনীত সদস্য। গত বছর সে রাজ্যের ভোটে কংগ্রেস জিতেছিল ১১৩টি আসন। বিএসপির দুই বিধায়ক এবং সমাজবাদী পার্টির এক জন, চার জন নির্দল বিধায়কের সমর্থনে সরকার গড়েছেন কমল নাথ। বিজেপির রয়েছে ১০৯টি আসন। সেমিফাইনালে জেতার পরে এ বারের লোকসভা ভোটে মধ্যপ্রদেশ থেকে বেশ কিছু আসন জেতার আশা করছে কংগ্রেস। কিন্তু গত কাল বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষা দেখিয়েছে, রাজ্যে বিরাট ভাবে জিততে চলেছে মোদীর দল। কয়েকটি মাত্র কয়েকটি আসনে পেতে  পারে কংগ্রেস।

এই পরিস্থিতিতে ভার্গব জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের কৃষিঋণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে এবং সরকারের প্রতি বিধায়কদের আস্থা যাচাই করতে খুব তাড়াতাড়ি বিশেষ অধিবেশন ডাকতে রাজ্যপালকে অনুরোধ করেছে বিজেপি। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের মতে, বিজেপি সরকার ফেলার চেষ্টা করছে না। তবে তাঁরও দাবি,  কমল নাথ সরকারের প্রতি কংগ্রেসেরই একাংশের সমর্থন নেই। যেমন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো নেতা শেষ পর্বের ভোটের আগেই বিদেশে চলে গিয়েছেন।

মধ্যপ্রদেশে সরকার গড়তে মায়াবতীর দল কংগ্রেসকে সমর্থন দিলেও গত মাসেই দু’দলের মধ্যে টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়। লোকেন্দ্র সিংহ রাজপুত নামে বিএসপির এক নেতা কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরে মায়া টুইট করে হুঁশিয়ারি দেন, কমল নাথ সরকারের থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার কথা ভেবে দেখবেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী পরে
জানান, বিষয়টির সমাধান হয়েছে। কারণ, তাঁর মতে, কংগ্রেস ও বিএসপির লক্ষ্য একটাই— বিজেপিকে দূরে রাখা।

তবে মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতা দখল করলেও দলের গোষ্ঠীকোন্দল ভাবাচ্ছে এআইসিসিকেও। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এ বারের ভোটে তাঁর নিজের এলাকা গুনার বাইরে প্রচার করেননি। আর ভোপালের কংগ্রেস প্রার্থী ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংহ এ বার নিজেকে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রেই আটকে রেখেছিলেন। কংগ্রেস নেতারা ঘরোয়া ভাবে মানছেন, লোকসভা ভোটে দলের ফল খারাপ হলে তার পিছনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই দায়ী থাকবে।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত