তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি-নিন্দা কংগ্রেসের 
লোকসভা ভোটের ফলের পর অ-বিজেপি সরকার গঠনের চেষ্টা শুরু করেছে কংগ্রেস।
congress flag

ছবি: সংগৃহীত।

আর মাত্র এক দফার ভোটগ্রহণ বাকি। তার পরেই ভোটের ফল এবং নতুন সরকার গঠনের সমীকরণ শুরু। তার আগে আজ দিল্লি থেকে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা করল।

কলকাতায় অমিত শাহের রোড শোয়ে হাঙ্গামা ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার জন্য কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব আজ নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের নীতির দিকেই আঙুল তুলেছেন। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী নিজে মুখ না খুললেও দলের অন্য শীর্য নেতারা বিজেপির নিন্দায় সরব হন। প্রথমে আহমেদ পটেল, তার পরে দলের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা, এর পরে এআইসিসির মঞ্চ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বিজেপির নিন্দায় মুখর হন। কংগ্রেসের অভিযোগ, মোদী- শাহ মুখে কেন্দ্র-রাজ্য সহযোগিতার কথা বলেন। কিন্তু মোদী সরকারের সত্যতা হল যুক্তরাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ। 

রাতে পরপর দু’টি টুইট করেন সুরজেওয়ালা। প্রথমটির বক্তব্য, গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি এক কালো দিন। পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তে সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হয়েছে। ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে সমান সুযোগ দেওয়ার কথা বলা রয়েছে, সেই দায়িত্ব পালনেও ব্যর্থ হয়েছে কমিশন। ক্ষমার অযোগ্য ভাবে সংবিধানকে প্রতারণা করা হয়েছে। দ্বিতীয় টুইটে আরও সরাসরি আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস মুখপাত্র,  ‘‘প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে— কিছু করা হয়নি। বিজেপির হিংসা ও অমিত শাহের হুমকি— কিছু করা হয়নি। এ বার মোদীর ১৬ তারিখের সভার অনুমতি দিয়ে বাকি সকলকে আটকানো হল। একদা স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থাটির লজ্জাকর পতন।’’    

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

লোকসভা ভোটের ফলের পর অ-বিজেপি সরকার গঠনের চেষ্টা শুরু করেছে কংগ্রেস। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যে ভাবে তৃণমূলকে নিশানা করছে, বাহিনীকে কাজে লাগানো হচ্ছে, তাতে তৃণমূল প্রতিবাদ করলেও কংগ্রেস বা অন্য দলকে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের অসন্তোষ ছিল। আজ কার্যত সেই ক্ষোভ নিরসন করতেই এগিয়ে এল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তৃণমূলের পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক দলকেও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। কংগ্রেসের যুক্তি, বিদ্যাসাগর প্রথম নন। বিজেপি-আরএসএস এর আগে পেরিয়ার থেকে শুরু করে বি আর অম্বেডকরের মূর্তিতেও হামলা চালিয়েছে।

বিদ্যাসাগরের মতো ‘জাতীয় আইকন’-এর মূর্তি ভাঙার নিন্দা করে মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘মোদী সরকার এই ধরনের সব রকম সাংস্কৃতিক পরিচিতির উপর আঘাত করে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে প্রহসনে পরিণত করছে। যে ভাবে এক জন জাতীয় আইকনকে অপমানিত করা হয়েছে, আমরা শীর্ষ স্তর থেকে এর ভর্ৎসনা করছি, কঠোর শব্দে নিন্দা করছি।’’

মোদী-শাহ নিয়মিত প্রশ্ন তুলছেন, কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গেই হিংসা হচ্ছে? এর জবাবে সিঙ্ঘভি পাল্টা অভিযোগ করেন, যেখানেই বিজেপি শূন্য বা শূন্যের কাছাকাছি আসন পেতে পারে, সেখানেই তারা হিংসা বাধানোর চেষ্টা করছে। ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানা, বিহারেও হিংসা হয়েছে। কর্নাটক, কেরলেও এটা করেছে। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি নতুন সংস্কৃতির আমদানি করেছে— জঙ্গল-রাজ, ভিড়তন্ত্র। পরিকল্পিত ভাবে এতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। আমরা সরাসরি অভিযোগ করছি যে এর জন্য একশো শতাংশ দায়ী মোদী-শাহ জুটি ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।’’

আহমেদ পটেল বলেন, ‘‘আমরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার নিন্দা করছি। বাংলার মানুষ এই অপমান ক্ষমা করবে না। ক্ষমতার লোভে বিজেপি বাংলার সমস্ত আইকন, তাঁদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নষ্ট করছে।’’

তৃণমূলের পাশাপাশি অন্য আঞ্চলিক দলগুলিকে পাশে পেতে কংগ্রেস মনে করিয়ে দিয়েছে, কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে— যেখানেই সাংস্কৃতিক বিভিন্নতা রয়েছে, সেখানেই বিজেপি এই ধরনের হামলা করছে। মোদী-শাহের বিপরীতে, রাহুল গাঁধী সমস্ত আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও পরিচিতির পক্ষে। এই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পক্ষে থাকার বার্তা দিতেই রাহুল একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ ও কেরল থেকে ভোটে লড়ছেন।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত

আরও খবর