মসনদের লড়াই ঠিক যেন ‘গেম অব থ্রোনস’!
জিওটি নিয়ে ভারতীয়দের মধ্যেও বিস্তর উন্মাদনা রয়েছে। ১৮ এপ্রিল তামিলনাড়ুতে নির্বাচন।
polirical leaders

দেশ জুড়ে নির্বাচনী মরসুম। তার মধ্যেই সোমবার ভারতীয় সময় সকালে মুক্তি পেল মার্কিন ফ্যান্টাসি ড্রামা সিরিজ় ‘গেম অব থ্রোনস’ (জিওটি)-এর চূড়ান্ত সিজ়ন। রাজনীতির অলিন্দে বোনা হয়েছে নানা গল্প। সিংহাসন লাভের আশায় দাবার গুটির মতো চাল দিয়ে চলেছে রাজকীয় চরিত্রগুলি। ঠিক যেমন এখন দেশের রাজনীতিকদের লক্ষ্য দিল্লির মসনদ! 

জিওটি নিয়ে ভারতীয়দের মধ্যেও বিস্তর উন্মাদনা রয়েছে। ১৮ এপ্রিল তামিলনাড়ুতে নির্বাচন। তার আগে তামিল জনতার মন টানতে এই জিওটি-কেই অস্ত্র করল ডিএমকে। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জিওটি-র প্লটের তুলনা টেনে তৈরি করা হয়েছে মিনিট তিনেকের একটি ভিডিয়ো। হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। 

কথকের কথায় তামিলনাড়ু এখানে জিওটি-র ‘সেভেন কিংডমস’-এর সমতুল্য। ডিএমকে এবং এডিএমকে-র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেখা গিয়েছে নেড স্টার্ক এবং সারসেই ল্যানিস্টার-এর পরিবারের সংঘর্ষের ঝলক। করুণানিধির সঙ্গে মিল রয়েছে নেড স্টার্কের সঙ্গে। আবার করুণার ছেলে আলাগিরি যেন নেড স্টার্কের বড়ছেলে রব স্টার্কের প্রতিচ্ছবি। এ দিকে এমজিআর এবং করুণানিধির বন্ধুত্ব মনে করিয়ে দেয় জিওটি-র রবার্ট ব্যারাথিয়ন এবং নেড স্টার্কের কথা। ডিএমকে প্রেসিডেন্ট এমকে স্ট্যালিন এখানে জন স্নো। কানিমোঝি সানসা। কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গাঁধী ড্যানেরিস টারগেরিয়ান আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাকি মনে করিয়ে দেন হোয়াইট ওয়াকারদের দলকে।  

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধেছে এডিএমকে। ভিডিয়োটিতে এই নিয়ে আঙুল তোলা হয়েছে পলানিস্বামীর দিকে। ক্লিপের শেষ অংশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘‘জন স্নো এবং ড্যানেরিস একসঙ্গে হোয়াইট ওয়াকারদের থেকে ‘সেভেন কিংডমস’কে বাঁচাতে পারবে কি না তার উত্তর মিলবে ১৫ এপ্রিল। তবে স্ট্যালিন কি মোদীর হোয়াইট ওয়াকারদের হাত থেকে তামিলনাড়ুকে রক্ষা করতে পারবেন? সিদ্ধান্ত হবে ১৮ এপ্রিল।’’   

শুধু এই ভিডিয়োটিতেই নয়, নির্বাচনের আগে ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বারবার তুলনা টানা  হয়েছে জিওটি-র প্রেক্ষাপটের। ডিএমকে হোয়াইট ওয়াকারদের সঙ্গে মোদীর তুলনা করলেও অনেক সময়েই টিরিয়ন ল্যানিস্টারের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে তাঁর। কারণ, কংগ্রেসের পারিবারিক আভিজাত্যের বিরুদ্ধে নিজের তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসার ইতিহাসকে বারবার ঢাল করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। একাংশের মত, ড্যানেরিসের বেশ কিছু গুণ রয়েছে মোদীর মধ্যে। পুলওয়ামা হামলার প্রতিশোধ নিতে যে ভাবে তিনি পাকিস্তানকে 

নাস্তানাবুদের পরিকল্পনা করেছিলেন তার সঙ্গে ‘মাদার অব ড্রাগনস’-এর প্রতিশোধ স্পৃহার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। তবে বাকিদের বিষয়ে নানা মুনির নানা মত থাকলেও রাহুল গাঁধীর সঙ্গে জন স্নো-কেই এক করে দেখা হচ্ছে বারবার।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত