রাহুলের মোদী-মন্তব্য ‘সব দলিতের অপমান’! 
মহারাষ্ট্র ও গুজরাতের তিন  সভায় নিয়ম করে মজবুত সরকারের পক্ষেও সওয়াল করেছেন মোদী।
Modi

উপহার: গুজরাতের হিম্মতনগরে এক নির্বাচনী সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার। ছবি: রয়টার্স।

ছিল বেড়াল, নরেন্দ্র মোদী করে নিলেন রুমাল! 

রাহুল গাঁধী তাঁকে বিঁধেছিলেন দুর্নীতির প্রশ্নে। আইপিএলের প্রাক্তন কমিশনার ললিত মোদী, দেশ থেকে ফেরার হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী, কিংবা নরেন্দ্র মোদী— নাম করেননি কারও। শুধু রাফাল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানায় রেখে কপট বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘‘সব চোরের নামেই কি মোদী থাকে!’’ 

গত সোমবার মহারাষ্ট্রের নান্দেড়ে এক সভায় ওই কটাক্ষ ছুড়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি। সেটাকেই আজ পাল্টা আক্রমণের হাতিয়ার করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। দাবি করলেন, তিনি অনগ্রসর শ্রেণি তথা ‘পিছড়ে বর্গের’ বলেই কংগ্রেস তাঁকে এই ভাবে অপমান করছে। এটা শুধু তাঁর অপমান নয়। এটা পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সকলের অপমান। এবং তিনি এটা বরদাস্ত করবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। মহারাষ্ট্রের মাঢায় এক নির্বাচনী সভায় ‘ব্যথিত’ কণ্ঠে মোদী এ দিন বলেন, ‘‘এই রকম অপমান আমার সহ্য হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আদিবাসী, দলিত ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের অপমান আমি বরদাস্ত করব না। ওরা (কংগ্রেস) ভাবে ওরা দেশে সুলতানি শাসন চালাচ্ছে!’’ এর পরেই সভায় উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে মোদীর প্রশ্ন, ‘‘এ ভাবে কথা বলার জন্য আপনারা কংগ্রেসকে শাস্তি দেবেন কি না?’’ মঞ্চের সামনের দিকের ভিড় থেকে সম্মতির ধ্বনি ওঠা প্রত্যাশিতই ছিল।   

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

কিছু দিন ধরে এনসিপি-তে পরিবারতন্ত্র, শরদ পওয়ারের ভোট না-লড়া ও তাঁদের পারিবারিক অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন মোদী। এর জবাবে পওয়ার সম্প্রতি মোদীর নিজের পরিবার নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন। মোদী এ দিনের সভায় তার জবাব দিয়ে বলেন, ‘‘আমি অনুপ্রেরণা পাই গোটা দেশের পরিবারগুলি থেকে, তাদের আত্মত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রম থেকে। আমি জানি (পওয়ারজি) আপনি আমার পথে চলতে পারবেন না। দিল্লিওয়ালা (গাঁধী) পরিবারই আপনার আদর্শ।’’  

গাঁধী পরিবারকে নিশানায় রেখে মোদী বলেন, ‘‘দিল্লিতে যারা এসি ঘরে বসে ঠিক করে দিচ্ছেন, কী ঘটবে, কে কাকে আলিঙ্গন করবে, কে কার সঙ্গে হাত মেলাবে, কার দিকে তাকাবে, তারা বাস্তব পরিস্থিতির কিছুই জানেন না।’’ গুজরাতের হিম্মতনগরের সভায় কংগ্রেসের ইস্তাহারকে ফের ‘ভাঁওতা-পত্র’ আখ্যা দিয়ে মোদী বলেন, ‘‘আমরা যখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীগুলির হাত শক্ত করছি, কংগ্রেস তখন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে।’’ মোদীর প্রশ্ন, ‘‘ওরা (কংগ্রেস) কি আমাদের সেনাবাহিনীকে বিশ্বাস করে, নাকি পাকিস্তানের কথাকে?’’ আনন্দে এ দিনের তৃতীয় নির্বাচনী সভায় মোদী অভিযোগ করেন, ‘‘কংগ্রেস বরাবরই বল্লভভাই পটেলকে অপমান করে এসেছে। এখন তাঁর কাজকেও ভন্ডুল করতে নেমেছে। আফস্পা লঘু করে ও রাষ্ট্রদোহের আইন তুলে দিয়ে ওরা জম্মু-কাশ্মীরে যারা পাথর ছোড়ে— তাদেরই হাত শক্ত করতে চাইছে।’’ 

মহারাষ্ট্র ও গুজরাতের তিন  সভায় নিয়ম করে মজবুত সরকারের পক্ষেও সওয়াল করেছেন মোদী। তাঁর দাবি, কোনও দুর্বল (মজবুর) সরকারের পক্ষে দেশকে বিশ্বের অন্যতম ‘সুপার পাওয়ার’ করে তোলা সম্ভব নয়। মোদীর কথায়, ‘‘গত ভোটে আপনারা আমাকে পূর্ণ গরিষ্ঠতা দিয়েছিলেন, যাতে আমি পূর্ণ শক্তিতে জনকল্যাণে কাজ করতে পারি, দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে পারি। আপনারা দেখেছেন, গত পাঁচ বছর কী ভাবে আমি সরকার চালিয়েছি।’’ আর তার ফলেই দেশে এই প্রথম বার লোকসভা ভোটে মানুষ নিজের খরচে (তাঁর জন্য) প্রচার করছেন বলেও দাবি করেন মোদী।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত