• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ঘরেই লড়াই, জমি বিলে অস্বস্তিতে মোদী

Narendra Modi

গোদের উপর বিষফোঁড়া!

বসুন্ধরা, সুষমা বিতর্কে এমনিতেই জেরবার অবস্থা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সংসদের বাদল অধিবেশনে আর্থিক সংস্কারের পরিকল্পনাগুলির কী হাল হবে, তার ঠিক নেই। এর মধ্যেই বিপদ আসছে একেবারে ঘরের ভিতর থেকে। মোদীর জমি বিল নিয়ে মঙ্গলবার তুমুল আপত্তি তুলেছে আরএসএসেরই অনুগামী সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। অটলবিহারী বাজপেয়ীর জমানায় যাঁদের নিয়মিত বিক্ষোভ বিরোধীদের উৎসাহিত করে তুলত, সেই সংগঠনকেই এখন মোদীর বিরুদ্ধে মাথা তুলতে দেখে আহ্লাদে আটখানা কংগ্রেস।

জমি বিল নিয়ে আলোচনার জন্য যে সংসদীয় যৌথ কমিটি গড়া হয়েছে, আজ তার বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকেই জমি বিল নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। তবে অনেকেই মনে করেন, এ সব অনেকটাই লোকদেখানো। কংগ্রেস জমানায় এই কাজটা আইএনটিইউসি করত। মনমোহন সরকারের নীতির সমালোচনা করে শ্রমিকের আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা হতো। কিন্তু সরকার যা করার সেটাই করত। ওদের বিরোধিতার জন্য নীতি বদল হতো না। এ ক্ষেত্রেও তাই হতে চলেছে। তবে জমি বিল নিয়ে সঙ্ঘের পাশে থাকা সংগঠনের প্রশ্নগুলি বিরোধী দলগুলিকে উৎসাহিত করে তুলেছে।

সূত্রের খবর, কমিটিতে বিজেপি সদস্যদের উপস্থিতিতে স্বদেশি মঞ্চের আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজন দাবি করেন, জমি বিলে সরকারের সংশোধনগুলি কৃষকবিরোধী। তাঁদের প্রস্তাব, কৃষকদের সম্মতি ছাড়া কোনও ভাবেই জমি অধিগ্রহণ করা চলবে না। দ্বিতীয়ত, জমি অধিগ্রহণের ফলে কতগুলি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হল, কত জনের জীবিকা নিয়ে সঙ্কট তৈরি হল তা নিয়েও সমীক্ষা করতে হবে। জমি অধিগ্রহণের পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু না হলে, সেই জমিও ফেরত দিতে হবে সরকারকে। জাতীয় সড়কের দু’পাশে এক কিলোমিটার এলাকায় শিল্প করিডর গড়ার জন্য সরকার যে ভাবে জমি অধিগ্রহণের ক্ষমতা নিজের হাতে আনতে চাইছে, স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ তারও বিরোধিতা করেছে।

আজ না হয় কাল সংসদের যৌথ অধিবেশন ডেকেই জমি বিল সংশোধনী পাশ করাতে হবে মোদী সরকারকে। এ ছাড়া যে পথ নেই তা ঠারেঠোরে বুঝিয়েও দিয়েছেন অরুণ জেটলি। কিন্তু জমি আইনের সংশোধনী নিয়ে শাসক শিবিরের অন্দরেই যে ভাবে অসন্তোষ বাড়ছে, তা কেন্দ্রের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত সপ্তাহেই জমি বিলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল আরএসএস অনুমোদিত কৃষক সংগঠন ভারতীয় কৃষক সঙ্ঘ। তার পর আজ যৌথ কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়ে একই ধরনের মত জানায় স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। মহাজন বলেন, ‘‘ইউপিএ জমানার আইনটি সংশোধনের জন্য বর্তমান সরকারের তাড়া দেখছি। তাই তারা একের পর এক ভুলে ভরা অধ্যাদেশ আনছে।’’

যৌথ কমিটির সামনে এখনও পর্যন্ত ৫০২টি সংগঠন (অণ্ণা হজারের মতো ব্যক্তি ধরে) তাদের মত জানিয়েছে। তার মধ্যে বণিকসভা ফিকি ও সিআইআই ছাড়া ৫০০টি সংগঠনই সংশোধন বিলের কোনও না কোনও ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছে। তবে অনেকেই মনে করেন, আসল গোলমাল বাধবে কমিটির রিপোর্ট চূড়ান্ত করার সময়। কমিটিতে ৩০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন বিজেপির সাংসদ। রিপোর্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে পাশ করাতে হলে ১৬ জনের সমর্থন প্রয়োজন। কমিটিতে বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, বিএসপি, বাম সদস্য ছাড়াও ছোট দলগুলির আরও ৬ জন রয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জনের সমর্থন সরকারের প্রয়োজন। সে দিক থেকে শিবসেনা, এনসিপি এবং ওয়াই এস আর কংগ্রেসের ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরা বিলের বিরোধিতা করলে যৌথ কমিটির রিপোর্টও সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে পাশ করানো মুশকিল হবে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন