প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গুজরাতের বিজেপি সভাপতি জিতু ভাগনানি উপহার দিয়েছিলেন একটি ধাতুর নৌকো। ৫ হাজার টাকা থেকে নিলাম হাঁকা শুরু হল। দাম উঠল ১৫ হাজার টাকায়। 

দলিতদের প্রতি মোদী সরকারের অবিচার নিয়ে সরব হয়ে সম্প্রতি বিজেপি ছেড়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাংসদ সাবিত্রী ফুলে। তিনি একটি গৌতম বুদ্ধের মূর্তি উপহার দিয়েছিলেন মোদীকে। সেটাও নিলামে উঠল। তবে কেউই কিনলেন না।

নিলামের সময় একদম পিছনের সারিতে বসেছিলেন গেরুয়া সংগঠন হিন্দু সেনার রাষ্ট্রীয় উপাধ্যক্ষ সুরজিত যাদব। দিল্লির কেরল ভবনে গোমাংস বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে একবার অশান্তি পাকিয়েছিল হিন্দু সেনা। এমনকি ক’দিন আগেই তারা রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীও ঘটা করে পালন করেছে। কারণ ভিক্টোরিয়ায় আমলেই এ দেশে মুসলিম শাসন শেষ হয়। সেই হিন্দু সেনার শীর্ষ নেতাই এ দিন নিলামে বিভিন্ন জিনিসের জন্য সবথেকে বেশি দর হাঁকলেন। বেশ কিছু জিনিস মহা-উৎসাহে কিনেও ফেললেন। 

নিলামের মধ্যেই দিল্লির এক ব্যবসায়ী চেঁচিয়ে জেনে নিলেন, জিএসটি লাগবে না তো? আশ্বাস দেওয়া হল, জিএসটি-র ভয় নেই। নোট বাতিল করে নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, নগদ মানেই কালো টাকা। তাই ডিজিটাল লেনদেন দরকার। রবিবারের নিলামে চুপিসারে অনেকে জেনে নিলেন, নগদে দাম দেওয়া যাবে? উত্তর ‘হ্যাঁ’ শুনে নগদেই দাম মেটাতে লাইন দিলেন অনেকে।

গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদী বহু উপহার পেয়েছেন। সরকারি তোষাখানায় তালা বন্ধ থাকা সেই রকম ১৯০০ উপহার আজ থেকে নিলাম শুরু হল দিল্লির ন্যাশনাল গ্যালারি অব মডার্ন আর্টে। যার পুরো অর্থ খরচ হবে গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করা নিয়ে মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘নমামি গঙ্গে’-র জন্য।

‘‘প্রধানমন্ত্রী আসলে সাধু-সন্ন্যাসীর মতো। ওঁর নিজের সব কিছুই দেশের জন্য। তাই পাওয়া উপহারও দেশের জন্য বিলিয়ে দিচ্ছেন’’— বলছিলেন এনজিএমএ-র ডিরেক্টর জেনারেল অদ্বৈত চরণ গরনায়ক। তাঁর মন্তব্য, ‘‘প্রতিটি উপহারের ন্যূনতম দাম ঠিক হয়েছে। তার ভিত্তিতে এই ১৯০০টি সামগ্রীর দাম ৩৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু নিলামে অনেক দাম উঠবে। আসলে তো এ সব অমূল্য। ভাবুন, প্রধানমন্ত্রীর মাথার পাগড়ি, তাঁর ছোঁয়া অঙ্গবস্ত্রের সঙ্গে কতখানি আবেগ জড়িয়ে।’’ 

সেই আবেগ-এ ভর করেই কাগজে কাঁচা হাতে আঁকা মোদীর ছোট্ট পোর্ট্রেটের দাম উঠল তিন হাজার টাকা! স্বামী বিবেকানন্দ, স্বামী চিন্ময়ানন্দ এবং নরেন্দ্র মোদীকে ফোটোশপ করে একই ফ্রেমবন্দি ছবি নিলামে ৩,২০০ টাকায় বিক্রি হয়ে গেল! কাণ্ড শুনে তৃণমূলের এক সাংসদ মুখ বেঁকিয়ে বললেন, ‘‘দিদির আঁকা ছবি নিলাম হলেই দোষ! মোদীর ছবি নগদে নিলাম হলে দোষ নেই!’’