পর পর তিন বার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আগেই নজির গড়েছিলেন। এ বার নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থ বার শপথ নিলেন নেফিয়ু রিও। ইতিহাস গড়ে আজ প্রথম বার রাজভবনের দরবার হল নয়, খোলা মাঠে শপথ গ্রহণ অনু্ষ্ঠানের আয়োজন হল। ব্যতিক্রম আরও ছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়েও সরকার গড়তে পারেনি এনপিএফ। জোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েও মন্ত্রিসভায় মাত্র ৪টি আসন পেল স্থানীয় দল এনডিপিপি।
আবার মাত্র ১২ আসনে জিতেও বিজেপির ৬ জন বিধায়ক মন্ত্রী হলেন। রাজ্যপালের দফতর থেকে পাঠানো শপথগ্রহণের আমন্ত্রণপত্রে থাকা মন্ত্রীর তালিকায় শপথের সকালে হল অদল-বদল।

কোহিমার যে মাঠে ১৯৫১ সালের ১৬ মে নাগাল্যান্ডের মানুষ জড়ো হয়ে টিপসই দিয়ে স্বশাসনের পক্ষে জনমত দিয়েছিলেন, সেখানেই বিরাট দোতলা মঞ্চ গড়ে শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হয়েছিল। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব ও নেডার আহ্বায়ক হিমন্তবিশ্ব শর্মা। ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, অরুণাচলের পেমা
খান্ডু, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ। হেলিকপ্টার পৌঁছতে দেরি হওয়ায় অনুষ্ঠান ঘণ্টাখানেক দেরিতে শুরু হয়।

১২টা ২৫ মিনিটে শপথ নেন রিও। উপ-মু্খ্যমন্ত্রী হন বিজেপির বিধায়ক দলের প্রধান ও দলের সভাপতি ওয়াই প্যাটন। রাজ্যপালের দফতরে ছাপা হওয়া ও বিলি করা শপথ গ্রহণের চিঠিতে মন্ত্রীর তালিকায় প্যাটনের নাম ছিল না। কিন্তু এনপিএফের বদলে এনডিপিপিকে সমর্থন করে রিওকে মুখ্যমন্ত্রীর
আসন ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে বিজেপি শেষ পর্যন্ত ৬ জন মন্ত্রী দাবি করে। তাই আজ সকালে সেখানে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্যাটনের নাম ঢোকে। একই সঙ্গে শপথ নেন, এনডিপিপির সি এম চাং, নেইবা ক্রোনু, মেটসুবো জামির, বিজেপির এস পাংনিউ ফোম, পি পাইওয়াং কন্যাক, জ্যাকব জিমোমি, ভি কাসিহো সাংতাম ও তেমজেন
ইমা আলং লংকুমার। প্রথম বার বিধায়ক হয়েই সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে নির্দল বিধায়ক টংপাং ওঝোকুং মন্ত্রী হয়েছেন।