• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জয়ার বাড়িতে ঢুকতে বাধা ভাইঝি দীপা জয়কুমারকে, পোয়েস গার্ডেনে ধুন্ধুমার

Deepa Jayakumar
দীপা জয়কুমার। ছবি: সংগৃহীত।

Advertisement

জয়ললিতার বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হল না তাঁর ভাইঝি দীপা জয়কুমারকে। উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা পোয়েস গার্ডেন। তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন দীপার সমর্থকরা। চেন্নাইয়ের পোয়েস গার্ডেনে তামিলনাড়ুর প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর প্রাসাদোপম বাড়িতে রবিবার ঢোকার চেষ্টা করেন দীপা জয়কুমার। পথ আটকায় পুলিশ। এআইএডিএমকে-র আম্মা ক্যাম্পের নির্দেশেই পুলিশ তাঁকে তাঁর পিসির বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি বলে দীপা জয়কুমারের অভিযোগ। আম্মা ক্যাম্পের তরফে জানানো হয়েছে, জয়ার পোয়েস গার্ডেনের বাড়ি এখন তালাবন্ধ। সেখানে ঢোকার অনুমতি দীপা জয়কুমারের কাছে ছিল না। তিনি জোর করে ঢুকতে চাইছিলেন।

জয়ললিতার মৃত্যুর পর থেকে তাঁর পোয়েস গার্ডেনের বাড়ি ভি কে শশিকলার দখলেই ছিল। তিনি জেলে যাওয়ার পর থেকে বাড়িটি তালাবন্ধ। কিন্তু শশিকলা শিবিরের সঙ্গে পনীরসেলভম শিবিরে প্রবল সঙ্ঘাতে এআইএডিএমকে যখন আড়াআড়ি দু’ভাগ, তখন জয়ার উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে আসরে নেমে পড়েছেন জয়ার ভাইঝি দীপা জয়কুমারও। পিসির মৃত্যু স্বাভবিক ভাবে হয়নি, এর পিছনে রহস্য রয়েছে বলে দীপা একাধিক বার অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগের তির শশিকলার দিকেই। তিনি রাজনীতিতে এসে পিসি অর্থাৎ জয়ার জন্য সুবিচার আদায় করবেন বলে দীপার অঙ্গীকার। জয়ার প্রয়াণের পর থেকে দীপা একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচিও গ্রহণ করছেন। তেমনই এক কর্মসূচিতে রবিবার জয়ার পোয়েস গার্ডেনের বাড়িতে যান দীপা জয়কুমার। বাড়ির সামনের বারান্দায় জয়ললিতার যে ছবি রাখা রয়েছে, তাতে মাল্যদান করবেন বলে প্রথমে জানিয়েছিলেন দীপা। জয়ার বাড়িতে গিয়ে এ দিন তিনি ছবিতে মাল্যদানও করেন। তার পরই শুরু হয় গোলামাল। দীপা বাড়ির ভিতরে ঢুকতে চান বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভিতরে ঢোকার অনুমতি তাঁকে দেওয়া হয়নি। তাতেই তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায় জয়ার পোয়েস গার্ডেনের বাড়ির বাইরে।

জয়ললিতার পোয়েস গার্ডেনের বাড়িতে পুলিশি বাধার মুখে দীপা জয়কুমার। ছবি: টুইটার।

মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে ২০১৬-র ৫ ডিসেম্বর প্রয়াত হন এআইএডিএমকে নেত্রী জয়রাম জয়ললিতার। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই এআইএডিএমকে-র অন্দরে এবং তামিলনাড়ুর ক্ষমতার অলিন্দে তুমুল টানাপড়েন শুরু হয়েছে। আম্মার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী কে হবেন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে এই টানাপড়েন। লড়াইয়ের এক দিকে জয়ার দীর্ঘ দিনের সঙ্গী ভি কে শশিকলা। অন্য দিকে ও পনীরসেলভম, যাঁকে জয়া নিজেই একাধিক বার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়েছিলেন। জয়ার প্রয়াণের ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই পনীর ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি। খুব শীঘ্রই দল ও সরকারের নিয়ন্ত্রণ শশিকলার হাতে চলে যায়। তিনি দলের সর্বোচ্চ পদে তো বসেনই। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার তোড়জোড়ও সেরে ফেলেছিলেন। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় তাঁর কারাদণ্ড হওয়ায়, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি।

আরও পড়ুন: ‘চতুর বানিয়া’ গাঁধী! তোপের মুখে অমিত

ই কে পলানীস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে শশিকলা জেলে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাঝে শশিকলার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে পনীরসেলভমদের সঙ্গে সন্ধির চেষ্টা শুরু করেছিলেন পলানীস্বামীরা। শশিকলা জেলে যাওয়ার আগে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে বসিয়ে গিয়েছিলেন নিজের ভাইপো টিটিভি দিনকরণকে। পনীরদের সঙ্গে সন্ধির তাগিদে সেই দিনকরণকে দল থেকে ছেঁটে ফেলেছিলেন পলানীস্বামীরা। কিন্তু সন্ধি শেষ পর্যন্ত হয়নি। ফলে সম্প্রতি ফের দিনকরণকে এইআইএডিএমকে আম্মা ক্যাম্পের সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে বসানো হয়েছে। তার পর থেকেই শশিকলা-পলানীস্বামী-দিনকরণদের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়েছেন জয়ার ভাইঝি দীপা জয়কুমার। এ দিন দিনকরণের নির্দেশেই পুলিশ তাঁকে জয়ললিতার বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি বলে দীপা জয়কুমারের দাবি। তামিলনাড়ুর সরকার এখনও আম্মা ক্যাম্পের অর্থাৎ পলানীস্বামী-দিনকরণদেরই নিয়ন্ত্রণে। তাই পুলিশ দীপা জয়কুমারকে জয়ার পোয়েস গারাডেনের বাড়িতে ঢুকতে দিল না বলে দীপার সমর্থকরাও অভিযোগ করছেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় সঙ্গীত জানেন না কর্নাটকবাসীরা, বিতর্কিত মন্তব্য গোয়ার শিবসেনা প্রধানের

এআইএডিএমকে-র আম্মা ক্যাম্প অবশ্য জানাচ্ছে, দীপা জয়কুমারকে বাধা দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না পুলিশের হাতে। বাড়ির বারান্দায় জয়ার যে প্রতিকৃতি রাখা রয়েছে, তাতে মাল্যদান করার অনুমতি চেয়েছিলেন দীপা। অনুমতি পেয়েওছিলেন। কিন্তু মাল্যদানের পর তিনি বাড়ির ভিতরে ঢুকতে চান। তালাবন্ধ বাড়িটিতে ঢোকার কোনও অনুমতি নাকি দীপার কাছে ছিল না, তিনি যে বাড়ির ভিতরে ঢুকবেন, তেমনটা আগে নাকি তিনি জানানওনি। সেই কারণেই দীপাকে পুলিশ বাধা দেয় বলে আম্মা ক্যাম্পের দাবি।

কিন্তু দীপা জয়কুমারের অনুগামীদের দাবি, আগে থেকেই সরকার স্থির করে রেখেছিল যে দীপাকে হেনস্থা করা হবে। সেই কারণেই বিরাট পুলিশ বাহিনী ঘিরে রাখা হয়েছিল গোটা পোয়েস গার্ডেনকে। ওই এলাকার বাসিন্দা যাঁরা, শুধুমাত্র তাঁদেরই এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল। দীপা জয়কুমারের কর্মসূচি চলাকালীন বাইরের কোনও গাড়িকে পোয়েস গার্ডেনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। সংবাদমাধ্যমকেও জয়ললিতার বাড়ির আশেপাশে পুলিশ ঘেঁষতে দেয়নি বলে অভিযোগ। দীপা জয়কুমারের হেনস্থার ছবি যাতে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা না পড়ে, তার জন্যই পুলিশের এই অতিসক্রিয়তা বলে জল্পনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন