বক্তা রাষ্ট্রপতি। কিন্তু বক্তৃতার বয়ান সরকারের। প্রত্যাশিত ভাবেই তাই প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিন জাতির উদ্দেশে রামনাথ  কোবিন্দের বক্তৃতায় ছত্রে ছত্রে গন্ধ রইল ভোটের প্রচারের। 

রাষ্ট্রপতির কথায়, ২০১৯ শুধু কর্মচন্দ গাঁধীর দেড়শোতম জন্মবার্ষিকী কিংবা সংবিধান গৃহীত হওয়ার সাত দশক পূর্তির বছর নয়। তার অসীম গুরুত্ব লোকসভা ভোটেও। যেখানে এই প্রথম বার ব্যালটে নিজের অধিকার প্রয়োগ করবেন এই শতকে জন্মানো নতুন প্রজন্ম। 

কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের দাবি, ২০১৪-র ভোটের আগেও নতুন প্রজন্মের ভোট টানতে ঝাঁপিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু এ বার তিনি বিলক্ষণ জানেন, বিপুল প্রতিশ্রুতি দিয়েও কাজের সুযোগ তৈরি না-করায় তাঁর সরকারের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন কমবয়সি ভোটারদের বড় অংশ। সেই কারণেই ঘুরিয়ে তাঁদের কাছে ভোট ভিক্ষার রাস্তা খুঁজছেন তিনি।

কোবিন্দ বলেন, বহু আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই মুহূর্তে ভারত দাঁড়িয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। যেমন হয়েছিল ১৯৪০-৫০ এর দশকে। ইঙ্গিত, মাঝের ৬০-৬৫ বছরের যাবতীয় ব্যর্থতাকে মুছে জন্ম হচ্ছে নতুন ভারতের। ঠিক যে কথা ভোট ময়দানে 

হামেশাই বলেন প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মার অভিযোগ, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, যখন থেকে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন, ভারতের অগ্রগতি যেন তখন থেকেই শুরু। বক্তব্য রাষ্ট্রপতির হলেও প্রধানমন্ত্রীর সেই কথার ছাপ এখানেও দেখা গেল। তার মানে কি স্বাধীনতার পর থেকে ৬০-৭০ বছরে ভারতের 

উন্নতিই হয়নি?’’

শর্মার কটাক্ষ, ‘‘সাড়ে চার বছর আগে বিপুল প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মোদী। তার কোনওটিই যে পূরণ হয়নি, এ দিন রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রতি ছত্রে তা স্পষ্ট।’’