মাস দুয়েক আগেই ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডব ছুঁয়ে গিয়েছিল শ্রীক্ষেত্রের জগন্নাথ মন্দিরকে। তছনছ হয়ে যাওয়া সৈকত শহরের স্টেশন-জনপদে এই সে-দিনও ছড়িয়ে ছিল ধ্বংসলীলার চিহ্ন। বৃহস্পতিবার দিনভর রথযাত্রার ছন্দ তবু একফোঁটা টাল খেল না। 

বরং সাধারণ ভক্ত থেকে মন্দিরের সেবায়েতকুল, সবাইকে অবাক করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের রীতি প্রত্যাশিত সময়েরও আগে সুসম্পন্ন হয়েছে। মন্দিরের সরকার নিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সদস্য তথা বর্ষীয়ান সেবায়েত রামচন্দ্র দয়িতাপতি বলছিলেন, ‘‘২০১১ সালের পরে কখনও এতটা দ্রুত, মসৃণ ভাবে সব অনুষ্ঠান শেষ হয়নি।’’ সকালে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার মন্দিরে বাইরে পদার্পণের অনুষ্ঠান বা পাহুন্ডি শুরু হয়ে যায় নির্ধারিত সময়ের আগে বেলা সাড়ে আটটায়। বলরামের রথ তালধ্বজ, সুভদ্রার দর্পদলন, জগন্নাথের নন্দিঘোষ চলতে শুরু করে সময়ের আগে। সাধারণত, সন্ধ্যায় পথের মাঝখানে রথের থেমে যাওয়াই দস্তুর। তিনটি রথ সচরাচর সময়ে পৌঁছতে পারে না। এ যাত্রা, সেই পরম্পরাও পাল্টে গিয়েছে। সন্ধ্যা ছ’টার কিছু ক্ষণ বাদে গুন্ডিচা মন্দিরে পৌঁছেও যায় জগন্নাথের রথ। সেবায়েতরদের ব্যাখ্যা, এ বার দু’দিন আগেই প্রভুর নবযৌবন উৎসবের আচার হয়ে গিয়েছে। ফলে, রথের আগের দিনটা কিছুটা বিশ্রামের আমেজ ছিল মন্দিরে। রামচন্দ্রের কথায়, ‘‘প্রভুর কৃপা, এমন চমৎকার আবহাওয়া রথে দেখা যায় না! বৃষ্টি হয়নি, অথচ রোদ নেই। সুন্দর হাওয়া বইছিল। ভক্তদের কোনও কষ্ট পেতে দেননি প্রভু।’’ 

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ফণীর পরের রথে কিছুটা হলেও কম স্ফীত ছিল জনসমুদ্র। দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে চেষ্টার কসুর করেনি ওড়িশা প্রশাসন। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরা টুইট করে রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। পুরীতে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক থেকে ওড়িশার সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। পুরীর জেলাশাসক বলবন্ত সিংহ আগামী ন’দিন ধরে উৎসবে সব রকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আশ্বাস দেন। ১২ জুলাই উল্টো রথ বা বাহুড়া যাত্রা। ১৪ জুলাই মন্দিরে ফিরবেন শ্রী জগন্নাথ।  

রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে টুইট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত বছরের রথযাত্রার দু’টি ছবি পোস্ট করে মোদী টুইটারে লেখেন, ‘‘রথযাত্রা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। জগন্নাথদেবের কাছে সকলের সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। জয় জগন্নাথ।’’  আমদাবাদের ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরে সকাল সকালই প্রার্থনায় শামিল হয়েছিলেন সস্ত্রীক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে আরতিও করেন তিনি।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।