সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করতে পারলে তাজমহল বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্র এবং উত্তরপ্রদেশ সরকার এই সৌধকে রক্ষা করার বিষয়ে অত্যন্ত ‘অলস’ বলেও এ দিন মন্তব্য করেছে বিচারপতি এম বি লোকুর এবং বিচারপতি দীপক গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ।কেন্দ্রকে রীতিমতো তিরস্কার করে শীর্ষ আদালত বলে, হয় সৌন্দর্য রক্ষা করা হোক, না হয় ধ্বংস করে ফেলা হোক।

তাজমহল রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির সময়ে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে, ‘‘অনেকটা টিভি টাওয়ারের মতো দেখতে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার! তবুও বছরে ৮ কোটি মানুষ তা দেখতে যান। আমাদের তাজ তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর। বিদেশ থেকে বহু মানুষ শুধু এই সৌধটি দেখতেই ভারতে আসেন। যদি সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হত, তা হলে এত দিনে দেশের বিদেশি মুদ্রার সমস্যা সহজেই মিটে যেত।’’

বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম এই সৌধটির সৌন্দর্য বজায় রাখতে কিছুদিন আগেই তাজমহল চত্বরের ভিতরে একটি ধর্মস্থানে বহিরাগতদের নমাজ পড়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে কেন্দ্র এবং যোগী সরকার, কেউই তাজ রক্ষায় বাড়তি নজরদারির পথে হাঁটছে না বলে অভিযোগ।

তাজমহল রক্ষার বিষয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিল সংসদের স্থায়ী কমিটি। তা সত্ত্বেও কেন এখনও এই নিয়ে কোনও দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়নি সরকার তা নিয়েও এ দিন প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। তাজমহল রক্ষার বিষয়ে এখনও অবধি কতটা কাজ এগিয়েছে বা ভবিষ্যতে কী কী করার কথা ভাবা হচ্ছে, তা নিয়ে কেন্দ্রকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট।

কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য এ দিন বেঞ্চকে জানায় যে,  ইতিমধ্যেই তাজমহল সংলগ্ন এলাকার বায়ুদূষণের পরিমাণ পরীক্ষার ভার দেওয়া হয়েছে কানপুর আইআইটিকে। চার মাসের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা তাদের। পাশাপাশি তাজমহলের আশপাশের এলাকায় দূষণের কারণগুলি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলেও এ দিন জানায় কেন্দ্র। দূষণের সূত্রগুলি জানা গেলেই উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে বলে আদালতকে জানায় কেন্দ্র।

তাজমহল রক্ষার বিষয়ে কাজ কতটা এগোচ্ছে তার উপরে নজর রাখতে ৩১ জুলাই থেকে প্রতি দিন শুনানি হবে বলে বুধবার জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।