ভাল ফসলের আশায় দেশের চাষিরা আগে শুধুই বরুণদেবের উপর আস্থা রাখতেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নতুন প্রকল্প ‘প্রতি ফোঁটায়, আরও শস্য’ (পার ড্রপ, মোর ক্রপ) ঘোষণা করার পরে দেশের নানা প্রান্তের কৃষকদের চোখ এখন মাঝ আকাশে। কারণ, অনেকেই ব্যস্ত ‘উপগ্রহ দেবতা’কে তুষ্ট করতে।

যেমন ধরা যাক, রাজস্থানের শের সিংহের কথা। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বললেন, “নতুন এই প্রকল্পে উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে কিছু দিনের মধ্যেই মাটির আর্দ্রতার পরিমাণ জানতে পারব। বেশি বৃষ্টি এবং তার পরে ভাল শস্যের জন্য রোজ বরুণদেবের পুজো করি। এখন তার পাশাপাশি তাই উপগ্রহ দেবতার পুজো-ও করি।”

মোদী গত জুলাইয়ে ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ’-এর এক অনুষ্ঠানে এই নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। সে দিন তাঁর বক্তৃতায় জানা যায়, মাটির আর্দ্রতার পরিমাণ জেনে কম সময়ে হেক্টর প্রতি উৎপাদন বাড়াতেই এই পদক্ষেপ। কারণ, দেশের সব জায়গায় বৃষ্টির পরিমাণ সমান নয়। তাই অনেক সময় কৃষকেরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

এর আগে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সে রাজ্যের চাষিদের জন্য ‘ন্যাশনাল সয়েল হেল্থ কার্ড’-এর মতো প্রকল্প চালু করেছিলেন। ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিজ্ঞানকে কাজে লাগানোর জন্যই মোদীর এই উদ্যোগ। সামনেই বর্ষা। তাই জুলাইয়ের মধ্যেই দেশের কৃষিজমির ছবি পাঠাবে উপগ্রহগুলি।

সেই উপগ্রহ চিত্র দেখে কী জানা যাবে? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, চাষযোগ্য জমির আর্দ্রতা, মাটির ধরণ-সবই জানা যাবে ছবিগুলি থেকে। চাষিরা কোন ধরনের জমিতে কী কী ফসল ফলালে উৎপাদন ভাল হবে সেটাও জামা যাবে।

আমেরিকা ও কানাডার মতো দেশ বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কৃষিতে এখন এগিয়ে। ড্রোন দিয়ে সে দেশের চাষিরা মাটি ও শস্য দু’টির উপরই নজর রাখতে পারেন।