দেশ জুড়ে বিচারকদের নিয়োগে ঢিলেমি নিয়ে দেশের হাইকোর্ট ও রাজ্য সরকারগুলিকে সতর্ক করল সুপ্রিম কোর্ট। তাদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত বলেছে, ‘‘বিচারকদের নিয়োগ করতেই হবে। আপনারা যদি সেই ব্যবস্থা না করতে পারেন, তা হলে আমরাই সেই কাজ করে দেব।’’

নিম্ন আদালতে বিচারকের সংখ্যার ঘাটতি ও পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে করা একটি মামলায় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি ইউ ইউ ললিত ও বিচারপতি কে এম জোসেফ কড়া অবস্থান নেন। বিচারকদের নিয়োগ নিয়ে বেঞ্চ বলেছে, ‘‘যদি কোনও হাইকোর্ট এ কাজ করতে না পারে, আমরাই করে দেব। কেন্দ্রীয় ভাবে একটি ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি আপনারা এই কাজ আমাদের দিয়ে না করাতে চান, তা হলে নিজেরা করুন।’’ বিচারকদের মন্তব্য, ‘‘বিচারকদের নিয়োগ করতেই হবে। এ নিয়ে আপনাদের কাজের দিকে সব সময়েই আমাদের নজর থাকবে।’’ এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে শীর্ষ আদালত পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, ছত্তীসগঢ় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাইকোর্টগুলির রেজিস্ট্রার জেনারেলদের তলব করেছে। আগামী ১৫ নভেম্বর, পরবর্তী শুনানির দিন তাঁদের হাজির থাকতে হবে। রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবদেরও ওই দিন একজন অফিসারকে পাঠাতে হবে, যিনি বিচারক নিয়োগের বিষয়টি জানেন। রাজ্যগুলিকে চারটি ভাগে ডাকা হবে। প্রথম পর্বে পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যকে ডাকা হচ্ছে।

শীর্ষ আদালত অবশ্য আগেই এ নিয়ে রাজ্য সরকার ও হাইকোর্টগুলি থেকে তথ্য জানতে চেয়েছিল। বিভিন্ন হাইকোর্ট বিচারক নিয়োগ নিয়ে যে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে, সে সব এ দিন খতিয়ে দেখেছে শীর্ষ আদালত। দিল্লিতে বিচারপতি নিয়োগের ঢিলেমি নিয়ে আজ বিশেষ ভাবে ক্ষোভ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্টের উদ্দেশে শীর্ষ আদালত বলে, ‘‘বিচারক নিয়োগ কবে হবে, তা নিয়ে আপনারা নির্দিষ্ট ভাবে কথা বলছেন না।’’ তাদের উদ্দেশে বিচারপতিরা বলেন, ‘‘২০০ জন আবেদনকারী। আর নিয়োগ করতে গিয়ে দু’বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন আপনারা। এই ধরনের উদ্যোগহীন মনোভাব কেন? আপনারা হাজার একটা কারণ দেখাতে পারেন। কিন্তু সে সব কি সত্যিই কাজের কথা?’’

আর এ দিনই সুপ্রিম কোর্টে চার বিচারপতিকে নিয়োগ করার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক।