• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কলাগাছের তুলনা টেনে বিতর্ক উস্কে দিলেন সুস্মিতা

বরাক রাজনীতিতে দেব পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দী গৌতম রায় প্রসঙ্গে কলাগাছের তুলনা টেনে এনে দলের মধ্যে বিতর্ক উস্কে দিলেন শিলচরের কংগ্রেস সাংসদ তথা সন্তোষ-কন্যা সুস্মিতা দেব।

আজ দক্ষিণ করিমগঞ্জের কংগ্রেস বিধায়ক, জেলবন্দি সিদ্দেক আহমেদকে দেখতে শিলচর থেকে করিমগঞ্জে আসেন সুস্মিতা। সিদ্দেকের গ্রেফতারির পিছনে বরাকের আর এক দোর্দণ্ডপ্রতাপ কংগ্রেস নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের বরাক-বিষয়ক উপদেষ্টা গৌতম রায়ের মদত রয়েছে বলে সিদ্দেক গোষ্ঠীর অভিযোগ। এরই পাশপাশি, বরাকের বিভিন্ন অংশে কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের নেতা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে। অনেকে আবার গৌতমবাবুর ঘনিষ্ঠ। বরাকের পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে রয়েছে যে গত লোকসভা নির্বাচনে গৌতমবাবু তাঁর নিজের বিধানসভা আসন কাটলিছড়ায় খানিকটা পিছিয়ে আছেন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, আগামী বিধানসভা ভোটে কাছাড় জেলার কাটিগড়া আসন থেকে গৌতমবাবু দাঁড়াতে পারেন বলে কংগ্রেস সূত্রের খবর। কাটিগড়া আসনটি সুস্মিতার লোকসভা আসনের মধ্যে পড়ছে। সুস্মিতা কী কাঠিগড়ায় গৌতমবাবুকে মেনে নেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সুস্মিতা বলেন, ‘‘দল যদি কলাগাছকেও দাঁড় করিয়ে দেয়, তা হলে সাচ্চা কংগ্রেসি হিসেবে আমি তাকেই সমর্থন করব।’’

গৌতম রায় সংক্রান্ত প্রশ্নে সুস্মিতা একেবারে কলাগাছের সঙ্গে তাঁর তুলনা টানায় কংগ্রেসের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কারণ কোনও এক সময়ে বরাক উপত্যকার বলিষ্ঠ নেতা হিসেবে সন্তোষমোহন দেবের যথেষ্ট পরিচিতি ছিল। সে সময় অসমের মন্ত্রী তথা কাটলিছড়ার বিধায়ক গৌতম রায় সন্তোষমোহনের রাজনৈতিক বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকেন। এ ছাড়া বর্তমানে সন্তোষমোহন দেবের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। আর সুস্মিতা হচ্ছেন সন্তোষ-কন্যা। বিগত লোকসভা নির্বাচনে কাটলিছড়া বিধানসভা এলাকায় কংগ্রেস প্রার্থী এআইইউডিএফ প্রার্থীর চাইতেও পিছনে ছিলেন।

অসমের রাজনীতিতে গৌতম রায়ের অবস্থানও এখন আর আগের মতো মজবুত নয়। গৌতম ঘনিষ্ট একাংশের মতে কাটলিছড়ার চাইতে কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা আসন অনেকটাই নিরাপদ। ফলে সেখান থেকে তাঁকে ভোটে লড়তে পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। গৌতম রায়ও বিভিন্ন সভায় কাটিগড়ার কথা প্রকারন্তরে বুঝিয়েছেন। 

বিজেপি সাংসদ আর পি শর্মা দাবি করেছেন, প্রায় ১৮ জন কংগ্রেসি বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। কংগ্রেসের বিধায়করা বিজেপির সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনাও চালাচ্ছেন বলে শর্মার দাবি। সে প্রসঙ্গে সুস্মিতা বলেন, ‘‘আর পি শর্মা হাওয়ায় কথা বলছেন। এ রকমই তিনি বলেন। ইনিই তো ‘ধূমপান করলে ক্যান্সার হয় না বলে জানিয়েছিলেন।’’ সুস্মিতার বক্তব্য, ‘‘এমন মানুষ কংগ্রেস বিধায়কদের নিয়ে এই মন্তব্য করবেন না তো কী করবেন!’’ সুস্মিতা বলেন, অসমে কংগ্রেসের যে চার জন সাংসদ রয়েছেন তার মধ্যে তিনিও একজন। ফলে অসমের অন্যান্য বিধায়কদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। বর্তমানে কোনও বিধায়ক দলের উপরে ক্ষুব্ধ, এমন খবর জানা নেই।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন