নিজের ঘর থেকে মহিলাদের সম্মান দেখানোর অভ্যাস শুরু করে প্রধানমন্ত্রীকে ‘পুরুষমানুষ’-এর মতো আচরণের পরামর্শ দিয়েছিলেন রাহুল গাঁধী। আজ মোদী শোনালেন মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে হিমালয়ে ইশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণের কথা। যেখানে গিয়ে তিনি তাঁর নাকি ঔদ্ধত্য বিসর্জনের উপলব্ধি হয়েছে!

কাল ভোট প্রচারে রাহুল গাঁধী ‘মহিলা’ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আড়ালে লুকিয়ে রাফাল বিতর্ক থেকে পালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন। জবাবে আর একটি ভোট-সভায় মোদী পাল্টা অভিযোগ করেন, মহিলা মন্ত্রীকে অপমান করেছেন রাহুল। সুষমা স্বরাজও রাহুলের সমালোচনা করেন। বিজেপি আমলে নিযুক্ত জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান রেখা শর্মা আজ রাহুলের ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিস ধরান। পাল্টা গর্জে ওঠে গোটা কংগ্রেস। খুঁজে খুঁজে বের করে, এযাবৎ মহিলা-বিদ্বেষী কী কী মন্তব্য করেছেন মোদী। দলের প্রশ্ন, মহিলা কমিশন সে সব ক্ষেত্রে কেন চুপ ছিল? 

সনিয়া গাঁধীর উদ্দেশে ‘বিধবা’, ‘জার্সি কাউ’, শশী তারুরের ‘৫০ কোটি টাকার বান্ধবী’, রেণুকা চৌধুরীকে ‘শূর্পণখা’-র মতো নানান মহিলা-বিরোধী কথা বলেছেন মোদী। কংগ্রেসের নেতারা এ-ও স্মরণ করাচ্ছেন, নিজের মা-কেও নোটবন্দির সময় ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলিয়ে মোদী রাজনীতি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিবাসেও তাঁকে রাখেননি। নিজের স্ত্রী-কে তো স্বীকারই করেন না। রাহুলের কথায় সেই খোঁচাই ছিল বলে কংগ্রেস মোদীকে বোঝাচ্ছে। 

এমনই এক সময় আজ প্রধানমন্ত্রী এক পোর্টালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় অংশ টুইট করেন। যেখানে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে হিমালয়ের কাটানোর বিবরণ আছে। সাম্প্রতিক অতীতে মোদী-ঘনিষ্ঠ অনেক নেতাই জানান, সংসার ত্যাগের জন্যই মোদী তাঁর স্ত্রীকে গ্রহণ করেননি। প্রশ্ন উঠেছে, এ ভাবেই মোদী কি রাহুলের আক্রমণের জবাব দিতে চাইলেন?