কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি শুধুই সাংসদ হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করবেন। তার পর থেকে এত দিন কার্যত চুপচাপই ছিলেন রাহুল গাঁধী। কিন্তু কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রসঙ্গে সরকার অস্বস্তিতে পড়তেই ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ওয়েনাড়ের সাংসদ। ‘দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন মোদী’— টুইটারে তোপ রাহুলের। বিদেশমন্ত্রককে ‘দুর্বল’ বলে আক্রমণ করে রাহুলের দাবি, জবাব দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকেই। 

আমেরিকা সফররত পাক প্রধানমন্ত্রীকে ইমরান খানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে মধ্যস্থতার অনুরোধ করেছিলেন। সোমবার সন্ধ্যার এই সংক্রান্ত খবর সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায় ভারতে। বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে আক্রমণ করে, দেশের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন মোদী। অস্বস্তি ঢাকতে রাতেই বিবৃতি দিয়ে বিদেশমন্ত্রক, ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। মঙ্গলবার সংসদ শুরু হতেই বিরোধীরা চেপে ধরে সরকার পক্ষকে। প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির দাবিতে হই হট্টগোল শুরু করেন কংগ্রেস, সিপিএম থেকে শুরু করে সব বিরোধী দলের সাংসদরা। বিরোধীদের তুমুল হই হট্টগোলের মধ্যে সংসদের উভয় কক্ষেই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিবৃতি দিতে বাধ্য হন। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে লোকসভা থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী সাংসদরা। 

সংসদের ভিতরের এই লড়াই জারি রাখতে টুইটারকে হাতিয়ার করেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে টুইটারে তাঁর অভিযোগ, ‘‘ট্রাম্প বলছেন, নরেন্দ্র মোদী তাঁকে কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। যদি তাই হয়, তবে মোদী দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। লঙ্ঘন করেছেন শিমলা চুক্তি।’’

সংসদে বিদেশমন্ত্রী দাবি করেন, ‘‘ভারতের তরফে এমন কোনও প্রস্তাব ট্রাম্পকে দেওয়া হয়নি।’’ কিন্তু বিরোধীরা তাতে সন্তুষ্ট নন। তাঁদের বক্তব্য, যা বলার ট্রাম্পকেই বলতে হবে। রাহুল তার থেকে আরও এক কদম এগিয়ে বিদেশমন্ত্রককে ‘দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেছেন। রাহুলের বক্তব্য, ‘‘দুর্বল বিদেশমন্ত্রকের অস্বীকার যথেষ্ট নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কী কথা হয়েছিল, তা মোদীকেই স্পষ্ট করতে হবে।’’

আরও পডু়ন: মধ্যস্থতা বিতর্কে উত্তাল সংসদ, মোদী এমন অনুরোধ করেননি ট্রাম্পকে, বিবৃতি কেন্দ্রের

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে বিদ্রোহী বিধায়কদের মামলার শুনানি পিছিয়ে বুধবার, কর্নাটকে আজও আস্থা ভোট নিয়ে সংশয়

কংগ্রেস সভাপতির পদে থাকাকালীন এবং ভোট প্রচারের সময় রাফাল যুদ্ধবিমান কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে লাগাতার আক্রমণ করে গিয়েছেন রাহুল গাঁধী। কিন্তু লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এখনও সভাপতি পদে কাউকে বসাতে করতে পারেনি কংগ্রেস। উত্তরসূরি ঠিক করার আগে এখনও যে কোনও ইস্যুতে রাহুলই যে কংগ্রেসের মুখ, রাহুলের মন্তব্যে কার্যত সেটাই স্পষ্ট হল বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। ইস্তফার পর ফের রাহুল যে ফর্মে ফিরছেন, সেটাও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।