বুলন্দশহরের ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে এখন বেশি ভাবাচ্ছে গরু মারল কে? বুলন্দশহরে পুলিশ অফিসার সুবোধ কুমার সিংহ খুন হওয়ার তিন দিন পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল রাম কুমার বৃহস্পতিবার বললেন, ‘‘পুলিশ তদন্তটা করবে কী ভাবে? তার জন্য তো তথ্যপ্রমাণ প্রয়োজন। ওই ঘটনার চেয়েও এখন আমাদের বড় প্রশ্ন, বুলন্দশহরে কে বা কারা গরু মেরেছিল?’’

যার অর্থ, পুলিশ, প্রশাসন ‘একেবারেই নিশ্চিত’ যে, জঙ্গলে পড়ে থাকা ওই মাংস ছিল গরুরই! তা অন্য কোনও পশুর হতেই পারে না! মূল অভিযুক্ত বজরং দলের কর্মী যোগেশ রাজের এখনও কোনও খোঁজ পায়নি উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পুলিশের খাতায়, যোগেশ এখনও ‘পলাতক’। অন্য তিন জনকে অবশ্য গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ‘দায়িত্ববান’ পুলিশ আরও চার জনকে গ্রেফতার করেছে, গো-হত্যার অন্য একটি ঘটনায়, যাঁদের নামে পুলিসের কাছে অভিযোগ করেছিলেন বুলন্দশহর কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত যোগেশ।

পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ যোগেশকে কিন্তু এখনও দেখা যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে। যোগেশ হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিয়ো মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়েছে, সোমবারের ওই ঘটনার সময় তিনি তার ধারেকাছেই ছিলেন না। থানায় বসে ছিলেন।

আরও পড়ুন- যোগীর বাড়িতে নিহত ইনস্পেক্টরের পরিবার, মূল অভিযুক্ত যোগেশকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ বজরং দলের​

আরও পড়ুন- এপ্রিল থেকে গৃহঋণে সুদের কাঠামো বদলে দিচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক​

ও দিকে, কেন যোগেশ এখনও ধরা পড়েনি, আপাতত তার কারণ ব্যাখ্যা করতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন ইনস্পেক্টর জেনারেল রাম কুমার। বলেছেন, ‘‘ফরেন্সিক পরীক্ষা হোক আগে। তাতে কী পাওয়া যায়, দেখি। হাতে তথ্যপ্রমাণ না পেলে তো আর তদন্ত শুরু করতে পারে না পুলিশ। ওই পুলিশ অফিসারকে (সুবোধ কুমার সিংহ) কে বা কারা গুলি করল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সুমিতকে (বুলন্দশহরের ঘটনায় ওই দিন আর যিনি খুন হয়েছেন) কারা মারল, তাও স্পষ্ট নয়।’’

সহকর্মী খুনের ঘটনাকে যে তিনি ততটা গুরুত্ব দিতে চান না, তা বোঝাতে রাম কুমার বলেন, ‘‘গরুটাকে মারল কারা? কারা ছিল ওই ঘটনার ষড়যন্ত্রে? এটা আমাদের কাছে আরও বড় প্রশ্ন। ফরেন্সিক পরীক্ষা থেকে কোনও তথ্যপ্রমাণ যাঁর (যোগেশ রাজ) বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত হাতে আসেনি আমাদের, হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো তাঁর ভিডিয়ো মেসেজের সূত্রে তাঁকে গ্রেফতার করার গুরুত্বটা ততটা বেশি নয়।’’

বুলন্দশহরের ওই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এখনও ‘নিধিরাম সর্দার’ হয়ে থাকলেও, ওই সময় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে তন্ময় হয়ে থাকার সমালোচনায় জেরবার হয়ে রাজ্য প্রশাসন কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে বলেই সরকারি সূত্রের খবর। জানা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্রেফতার করতে বলেছেন মূল অভিযুক্তকে।