পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের সাতগুরুম নদীর ধারের রিসর্ট পছন্দ? নাকি ডুয়ার্সের তিস্তার ধারে বনবাংলো? পাঞ্চেত ড্যামের পাশে গড় পঞ্চকোট, না ভুটান-লাগোয়া দার্জিলিঙের জলঢাকা, প্যারেন? যেখানেই যেতে চান, যাত্রা একটু সহজ হয়ে গেল।

প্রকৃতি-পর্যটনে (ইকো-টুরিজম) উৎসাহ দিতে রিসর্ট সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত তথ্য পৌঁছে দিতে সরকারি পর্যটন আবাসগুলিকে দুই মলাটে বন্দি করছে বন দফতর।  ‘পকেট বুক’ ছাপার কাজ প্রায় শেষ। হয়তো গ্রীষ্মের পর্যটন মরসুমের আগেই বইটি মিলবে বন দফতরের জেলা সদরের অফিসগুলিতে।

কী কী থাকবে এই পকেট বইয়ে? রিসর্টের ছবি, নদী বা ট্রেকিং রুটের দূরত্ব, দর্শনীয় স্থানের বিবরণ তো থাকছেই। সেই সঙ্গে থাকবে রিসর্ট বুকিং-এর জন্য জেলার ফরেস্ট অফিসারের দফতরের নম্বরও। বন উন্নয়ন নিগমের যাবতীয় বুকিং অনলাইনে করা গেলেও, ফরেস্ট ডিরেক্টরের ইকো ভিলেজ রিসর্ট বুকিংয়ের ঠিকানা পেতে হিমশিম হন অনেকেই। এ বার মোট ৪৩টি ইকো ভিলেজ রিসর্টে যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার বিবরণ-সহ পুস্তিকা সে সমস্যা অনেকটাই ঘোচাবে।

বন দফতর সূত্রের খবর, হিতেন বর্মন বনমন্ত্রী থাকার সময়েই এমন পুস্তিকার পরিকল্পনা হয়েছিল। বন উন্নয়ন নিগম ও ফরেস্ট ডাইরেক্টরেটের অধীনে থাকা যথাক্রমে ২৩টি এবং ২০টি ইকো-ভিলেজ রিসর্টের সংক্ষিপ্ত বিবরণ একত্রিত করা হয়। ‘পকেট বুক’টি ছাপার প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে শুনে প্রাক্তন বনমন্ত্রী হিতেনবাবুর মন্তব্য, “অনেক সময়েই নানা মহল থেকে প্রশ্ন শুনতাম, কেন বন দফতরের সব রিসর্টের তথ্য এক জায়গায় মেলে না? তখনই বইটি প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আশা করব, এটি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে সমাদৃত হবে।”

একশো পৃষ্ঠার ছোট্ট বইটিতে নানা আকর্ষণীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে। যেমন পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের সাতগুরুম নদী লাগোয়া এলাকার দুয়াসিনি ইকো ভিলেজ রিসর্টের কটেজগুলির ছবি রয়েছে। ট্রেকিং, পাখি দেখা, নদীর দূরত্ব, সবই রয়েছে। মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে ঘাটশিলা ঘুরে আসার টিপস আছে। আবার ডুয়ার্সের দলসিংপাড়া চা বাগান পেরিয়ে ‘রাঙামাটি লজ’ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ভুটানের ফুন্টশিলিংয়ে কত কিছু দেখার রয়েছে সেই বিবরণও রয়েছে।

তথ্য পুস্তিকার দাম অবশ্য এখনও ঠিক হয়নি। তবে রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয় বর্মনের আশ্বাস, দাম কম রাখার চেষ্টা চলছে।