ভূমিক্ষয় রোধের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ইট তৈরির পন্থা বাতলে ইসরোর যুব বিজ্ঞান কর্মশালায় অংশ গ্রহণের ডাক পেল কোচবিহারের স্কুলছাত্রী। পুন্ডিবাড়ি জিডিএল গার্লস হাইস্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়া ওই ছাত্রীর নাম নন্দিতা সাহা। 

নভেম্বরে কলকাতায় আয়োজিত রাজ্যস্তরের জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসে নন্দিতার প্রজেক্ট নজর কাড়ে। ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত রাজ্যস্তরের একটি প্রতিযোগিতাতেও প্রথম পুরস্কার পায় নন্দিতা। সবমিলিয়েই ইসরোর ‘যুব বিজ্ঞান কর্মশালা’য় অংশগ্রহণকারীদের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে সে। আগামী মে মাসে ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালা হবে। মঙ্গলবার নন্দিতার বাবার কাছে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া নিয়ে ফোন আসে। পুন্ডিবাড়ি জিডিএল গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রীতা ভট্টাচার্য বলেন, “নববর্ষে এটা আমাদের উপহারের মতো।” 

নন্দিতার ‘গাইড টিচার’ সমাপ্তি রায় বলেন, “উত্তরবঙ্গের মধ্যে একমাত্র নন্দিতা নির্বাচিত হয়েছে।” ওই ছাত্রীর বাবা পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক নীহার সাহা বলেন, “মঙ্গলবার কলকাতা থেকে মেয়ের ওই সুযোগ প্রাপ্তির কথা জানিয়ে ফোন পেয়েছি। ১২-২৬ মে মেঘালয়ের নর্থ ইস্টার্ন স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালা হবে বলেও এদিন জানান হয়েছে।”

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

ইসরোর ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণের চূড়ান্ত তালিকায় সুযোগ পেয়ে অভিভূত নন্দিতা। তার কথায়, “এমন সুযোগ জীবনের সেরা প্রাপ্তি। শেখার জন্য কর্মশালায় যেতে মুখিয়ে আছি।” কী করে ভূমিক্ষয় রোধের পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব ইট তৈরির প্রকল্প মাথায় এল? নন্দিতা জানিয়েছে, ‘‘গ্রামে বহু বাড়িতে মাটির দেওয়াল দেখেছি। তাতেও গোবরের প্রলেপ দেওয়া হয়। তা নিয়ে কৌতূহল ছিল। তারপরেই পরিবেশ বান্ধব ইট তৈরির চিন্তাভাবনা শুরু।’’ নন্দিতা জানিয়েছে, ৭৫ শতাংশ গোবর আর ২৫ শতাংশ মাটির মিশ্রণ করে পরিবেশ বান্ধব ইট করা সম্ভব। এতে ইট তৈরির জন্য ব্যাপক ভূমিক্ষয় কমানো যাবে বলেও তার দাবি। সাধারণ ইটে রাসায়নিক ব্যবহারের জেরে পোড়ানোর সময় দূষণের আশঙ্কাও থাকবে না। 

ইসরোর এমন প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্কুল পড়ুয়াদের বিজ্ঞান চর্চার আগ্রহও অনেকটা বাড়বে বলে মনে করছেন জেলাস্তরে জাতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেস কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত সংস্থা কর্তারা। ওই সংস্থার কর্তা সুমন্ত সাহা বলেন, “ইসরোর ওয়েবসাইট থেকেই প্রথম নন্দিতা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে জানতে পারি। এ রাজ্য থেকে তিনজন ওই সুযোগ পেয়েছে। বাকি দু’জন দক্ষিণবঙ্গের। প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকা থেকে ওই তিন জন সুযোগ পাচ্ছেন।”