মুম্বই উপকূলে ভেসে এল কুয়েতি নৌকা! তিন সওয়ারিকে আটক করতেই প্রকাশ্যে ‘অন্য’ তথ্য
চোখের নিমেষে স্বপ্নের শহরে যে ভাবে দুঃস্বপ্ন হানা দিয়েছিল, তা আজও আলোচনার বিষয়। আচমকা এই নৌকার দেখা মিলতে তাই সতর্ক মুম্বই পুলিশ।
দেখতে দেখতে ভয়াবহতার দেড় দশক পার হতে চলল। তবু এখনও ২৬/১১-র স্মৃতি মুম্বইবাসীর মনে টাটকা। সেই রেশকেই আবারও খুঁচিয়ে মুম্বই লাগোয়া সমুদ্র উপকূলে আচমকা ভেসে এল বিদেশি নৌকা।
২০০৮ সালে ঠিক এমন ভাবেই মুম্বই উপকূলে নৌকায় ভেসে এসেছিল আমির আজমল কসাব-সহ ১০ পাকিস্তানি জঙ্গি। চোখের নিমেষে স্বপ্নের শহরে যে ভাবে দুঃস্বপ্ন হানা দিয়েছিল, তা আজও আলোচনার বিষয়। আচমকা এই নৌকার দেখা মিলতে তাই সতর্ক মুম্বই পুলিশ।
ভিন্দেশি নৌকার আবির্ভাব পুলিশকর্তাদের এক লহমায় নিয়ে গিয়েছে ১৫ বছর পিছনে।
মুম্বই পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে তাঁরা একটি নৌকা আটক করেছেন। ‘আবদুল্লা শরিফ’ নামের নৌকাটি আদতে কুয়েতের। তা হলে কী করে তা মুম্বই পৌঁছল?
নৌকা থেকে আটক করা হয়েছে তিন ব্যক্তিকেও। সব মিলিয়ে ‘গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া’র সামনে আবার রহস্যময় নৌকার আবির্ভাব একলাফে বাণিজ্যনগরীর রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটাই।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার রাতে আটক হওয়া নৌকায় ছিলেন মোট তিন জন। আরোহীরা প্রত্যেকেই তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলার বাসিন্দা। কিন্তু তাঁরা মুম্বই পৌঁছলেন কী করে?
তার জবাবে তাঁরা যে কাহিনি শুনিয়েছেন পুলিশকে, তা শুনে খাকি উর্দিরই চোখের পলক পড়ছে না। পুলিশকর্তাদের একটি অংশের মতে, এ কাহিনি কোনও হিট চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তিন ব্যক্তি একটি মৎস্য সংস্থায় কাজ করতেন। কিন্তু সেখানে কাজের পরিবেশ ছিল খুবই খারাপ।
কিছু বলতে গেলেই জুটত মালিকের মারধর। তার উপর বেতন হত না নিয়মিত।
আরও পড়ুন:
ফলে অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন ভারত থেকে সেখানে কাজ করতে যাওয়া তিন মৎস্যজীবী।
কর্মীরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন সে জন্য সংস্থাটি সকলের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছিল। ছিল না টাকাপয়সাও।
ফলে সাধ থাকলেও সাধ্য বিশেষ ছিল না তিন ব্যক্তির। অনেক ভেবে তাঁরা ঠিক করেন, মালিকের নৌকা নিয়েই পালাবেন দেশের দিকে।
সেই অনুযায়ী, মালিকের খারাপ ব্যবহার থেকে নিস্তার পেতে কুয়েতের সংস্থা থেকে নৌকা চুরি করে তাঁরা ভেসে পড়েন পারস্য উপসাগরে, তার পর ভাসতে ভাসতে আরব সাগর। একটানা ১২ দিন আরব সাগরে ভেসে তাঁরা পৌঁছন মুম্বই উপকূলে।
সেখানেই পুলিশ তাঁদের আটক করে। তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছেন, শেষ চার দিন কিছুই খাবার জোটেনি। কারণ পানীয় জল এবং রেশন শেষ হয়ে গিয়েছিল।
পুলিশ তিন জনকেই আটক করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এ মামলায় কোনও এফআইআর দায়ের করেনি পুলিশ।
তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া কুয়েতের নৌকাটিকে পুলিশ কোলাবায় তাজ হোটেলের কাছে আটকে রেখেছে।
যদিও এই ঘটনায় বিপদঘণ্টা শুনছেন অনেকেই। তাঁদের মনে পড়ে যাচ্ছে, মুম্বই উপকূলে ঢিলেঢালা নিরাপত্তার ফাঁক গলেই ২০০৮ সালে একই ভাবে নৌকায় ভেসে মুম্বই শহরে ঢুকে পড়েছিল কসাবের মতো জঙ্গি।
এ বারও কি তেমন কিছুই হতে পারত? এমন নয় তো যে, ইতিমধ্যেই কুয়েতের নৌকা থেকে কয়েক জন নেমে মিশে গিয়েছেন জনারণ্যে? ঘরপোড়া মুম্বইবাসীর চিন্তা এখন সেটাই।